আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার তেল ট্যাঙ্কার বেলা-১ জব্দ করতে মার্কিন মেরিন কমান্ডো বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে ব্রিটেনের সেনারা।
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, ‘‘রুশ তেলবাহী ওই জাহাজে অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন স্টার্মার।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাঠানো নৌবহরের পাহারা সত্ত্বেও বুধবার ভেনেজুয়েলা থেকে তেল বহনের কাজে ব্যবহৃত ট্যাঙ্কার বেলা-১ জব্দ করে মার্কিন মেরিন বাহিনী। পাশাপাশি, ক্যারিবিয়ান সাগরে সোফিয়া নামের অন্য একটি তেলবাহী জাহাজও জব্দ করে মার্কিন সেনারা। দু’টি জাহাজই শেষবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহণের কাজে লিপ্ত ছিল বলে ওয়াশিংটনের দাবি।
মার্কিন সেনাবাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ড জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণে ব্যবহৃত বেলা-১ নামের ওই ট্যাঙ্কারটিকে আইসল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সচিব ক্রিস্টি নোয়েম ঘোষণা করেন সোফিয়া জব্দের কথা।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের পরে এবার মার্কিন সেনাবাহিনীর রুশ জাহাজ জব্দ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মার্কিন অভিযানে ‘সক্ষম সহায়তা’র বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) জানিয়েছে- যুক্তরাজ্য রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) নজরদারি বিমান এবং রয়্যাল নেভির সহায়তা জাহাজ ‘আরএফএ টাইডফোর্স’ মোতায়েন করে মার্কিন অভিযানে সহায়তার অনুরোধে সাড়া দিয়েছে।
আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সোমবার আটলান্টিক মহাসাগরে তেলবাহী রুশ জাহাজের পিছু নেয় মার্কিন নৌবাহিনী। তা জানতে পেরে মঙ্গলবার রাতে পুতিনের নির্দেশে পাঠানো হয় ডুবোজাহাজ এবং যুদ্ধজাহাজ!
প্রকাশিত খবরে দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণে ব্যবহৃত বেলা-১ নামের ওই ট্যাঙ্কারটিকে আইসল্যান্ড উপকূল থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকায় অনুসরণ করছিল গোটা দশেক মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার। তখন থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে সেটি দখল করতে পারে পেন্টাগন। রুশ পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছিল, তারা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।
তিন মার্কিন সেনাকর্তা ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তেলবাহী জাহাজটির ওপর হামলা না-করার অনুরোধ করেছে মস্কো। একদা ইরানের তেল পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হতো বেলা-১। পরবর্তী সময় ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলা সরকার এই ট্যাঙ্কারটিকে তেল পরিবহণের কাজে ব্যবহার করতো বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি।
ডিসেম্বরে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন উপকূলরক্ষীরা তেলবাহী জাহাজটিকে জব্দ করারও চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। সে সময় ভেনেজুয়েলা সরকার ওয়াশিংটনের এই হামলার কড়া নিন্দা করেছিল। সে সময় তেলবাহী জাহাজটিতে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র গায়নার পতাকা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার পতাকা ওড়ানো হয়। সরাসরি বেলা-১-এর নাম না নিলেও মার্কিন সেনাবাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, আটলান্টিক মহাসাগরের ওই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া ‘নিষিদ্ধ’ঘোষিত জাহাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। একই কারণে সোফিয়াকেও জব্দ করা হয়েছে বলে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে। সূত্র: বিবিসি
কিউএনবি/অনিমা/৯ জানুয়ারী ২০২৬,/সকাল ৫:৪৫