আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাপানের ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানার সাত মাস বয়সী একটি শিশু ম্যাকাক বানর ইন্টারনেটে আবেগের ঝড় তুলেছে। জন্মের পরই মায়ের কোল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই ছোট্ট বানরটির নাম দেওয়া হয়েছে পাঞ্চ। একাকীত্ব কাটাতে প্রাণীটি সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে একটি খেলনা ওরাংওটাং। আইকিয়ার সেই খেলনাটি জাপানের বাজারে এখন রীতিমতো দুষ্প্রাপ্য। পাঞ্চ আর তার খেলনার এই দৃশ্যটি যখন বিশ্বজুড়ে হাজারো মানুষের চোখে জল আনছে, ঠিক তখনই সামনে আসছে এক রূঢ় ও অন্ধকার বাস্তবতা। যখন পাঞ্চের ‘কিউট’ ভিডিও দেখে আপ্লুত হচ্ছে সবাই, তখন আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে এই প্রজাতির হাজার হাজার বানরের আর্তনাদ।
পাঞ্চের এই দৃশ্যকে পশু অধিকার সংগঠন পেটা সহজভাবে দেখছে না। তাদের মতে, যা মানুষ ‘কিউট’ বলে মনে করছে, তা আসলে একটি সামাজিক প্রাণীর চরম মানসিক ট্রমা ও নিঃসঙ্গতার বহিঃপ্রকাশ। চিড়িয়াখানা কোনো অভয়ারণ্য নয় বরং এটি প্রাণীদের স্বাধীনতা হরণের জায়গা।
পেটা এশিয়া-র পরিচালক জেসন বেকারের মতে, যত দিন পর্যন্ত এই সংবেদনশীল প্রাণীদের বিনোদনের বস্তু হিসেবে দেখা হবে, ততদিন পাঞ্চের মতো অসংখ্য প্রাণীকে বন্দিদশায় ধুঁকতে হবে। তিনি পাঞ্চকে কোনো স্বীকৃত অভয়ারণ্যে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন, যেখানে প্রাণীটি স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হতে পারবে।
তবে পাঞ্চের এই বন্দি জীবনের চেয়েও বড় শঙ্কার কারণ হলো ম্যাকাক বানরদের ওপর হওয়া অমানবিক নিষ্ঠুরতা। বিশ্বজুড়ে বায়োমেডিক্যাল গবেষণার প্রধান লক্ষ্যবস্তু এখন এই প্রজাতির বানররা। মানবদেহে যেকোনো ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ঠিক আগের ধাপেই এদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন থেকে শুরু করে ক্যানসার ও পার্কিনসন রোগের গবেষণায় এই বানরদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও এর বিনিময়ে তারা পায় চরম যাতনা।
এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে গত তিন দশকে বন্য পরিবেশে এই বানরদের সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো থেকে অবৈধ পাচারের মাধ্যমে বন্য বানরদের খাঁচায় বন্দি করে গবেষণাগারে পাঠানো হচ্ছে। পাঞ্চের ভাইরাল হওয়া সেই বিষণ্ণ চোখগুলো যেন আজ সেই অগণিত নামহীন বানরদের প্রতিনিধি হয়ে মানুষের মানবিক বোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
কিউএনবি/অনিমা/২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১০:৫১