আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাজধানী কারাকাস থেকে শনিবার (৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করা হয়। দেশটির সরকারের ভেতরের এক সিআইএ চরের সাহায্যে মাদুরোর অবস্থান খুঁজে পায় যুক্তরাষ্ট্র আর তার ফলেই মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স দেশটির প্রেসিডেন্টকে আটক করতে সক্ষম হয়, সিবিএস নিউজ এমনটি জানতে পেরেছে।
যদিও এ নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করেছিল নিউ ইয়র্ক টাইমস, জানিয়েছে বিবিসি।
ভেনেজুয়েলা সরকারের ভেতরের এই চর অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্যের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। এই নেটওয়ার্কের মধ্যে স্যাটেলাইট, ড্রোন অথবা বিমানের মাধ্যমে তোলা উচ্চমানের ছবি, ভিডিওর পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সিগন্যাল বা বার্তা আড়ি পেতে তথ্য সংগ্রহ করার প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ভেনেজুয়েলায় অভিযানটি চালায় মার্কিন বাহিনী। যা ছিল সিআইএ ও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মাসের পর মাস ধরে চলা অতিসতর্ক পরিকল্পনা ও অংশীদারিত্বের ফল।
সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এর আগে জানিয়েছিলেন, তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মানব উৎস নিয়োগে অগ্রাধিকার দেবে। তবে এই চরকে কবে থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি বলে বিবিসি জানিয়েছে।
মাদুরোকে গ্রেপ্তার করতে তথ্য দিয়ে সাহায্য করলে পাঁচ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল মার্কিন সরকার।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন ভেনেজুয়েলায় চালানো তাদের অভিযানকে ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ বলে অভিহিত করেছেন। অভিযানটিকে ‘বিচক্ষণ’ ও ‘সুনির্দিষ্ট’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
তিনি জানান, এই অভিযান সেনা, নাবিক, বিমান কর্মী, মেরিন এবং গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ‘একযোগে কাজ করা’ অন্যরাও ছিল। এই অভিযানে যৌথ বাহিনীর ‘প্রতিটি উপাদান’ নিয়োগ করার প্রয়োজন হয়েছিল।
জেনারেল কেইন জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘সম্পূর্ণরূপে বিস্ময়ের উপাদান’ বজায় রেখেছিল। তারা ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গুড়িয়ে দিয়ে অক্ষম করে ফেলেছিল।
তিনি জানান, তারা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একটি মান সময় রাত ১টা ১ মিনিটে মাদুরোর কম্পাউন্ডে হাজির হন আর এলাকাটিকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।
তিনি আরও জানান, হেলিকপ্টারে করে সেখানে যাওয়ার পর মার্কিন বাহিনী ‘গুলির মুখে পড়ে’, কিন্তু তারা ‘দুর্বার শক্তি প্রয়োগ করে’ জবাব দেয়। একটি হেলিকপ্টারে আঘাত লাগলেও সবগুলোই ফিরে আসতে সক্ষম হয়।
মাদুরো ও তার স্ত্রী তখন ‘হাল ছেড়ে দেয়’ তারপর মার্কিন বিচার বিভাগ তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টা ২৯ মিনিটে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ইউএসএস ইও জিমা জাহাজে তোলা হয়।
কিউএনবি /অনিমা/০৪ জানুয়ারি ২০২৬,/সকাল ৭:২৯