রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্যে ইরানকে ‘শত্রু’ বললেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট! ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলেই আক্রমণ, প্রতিবেশীদের হুঁশিয়ারি ইরানের ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান নস্যাৎ করার দাবি হিজবুল্লাহর নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বিরল ফোনালাপ বাউবির বিএমএড ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মুখে আজকের মুসলিম বিশ্ব: মামুনুল হক পরকীয়া দ্বন্দ্বের জেরে বৃদ্ধকে কিলঘুষির ভিডিও ভাইরাল, থানায় মামলা ইরানে হামলা করে অস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, চিন্তায় মিত্ররা সাইপ্রাসে এফ-১৬ বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত তুরস্কের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি; হাতা-কড়াই-খুন্তি নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মমতার

নেত্রকোনার অবৈধ ইটভাটায় বিধিভঙ্গ করে পরিবেশের সর্বনাশ রমরমা ব্যবসা চলছে

শান্তা ইসলাম জেলা প্রতিনিধি ।
  • Update Time : রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১৪ Time View

শান্তা ইসলাম জেলা প্রতিনিধি : ,নেত্রকোনা নেত্রকোনার অবৈধ ইটভাটায় বিধিভঙ্গ করে তৈরি হচ্ছে ছোট আকৃতির ইট প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে রমরমা ব্যবসা, উপেক্ষিত পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় অভিযোগ পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যখন সরকার বদ্ধপরিকর, ঠিক তখনই নেত্রকোনা জেলায় একশ্রেণির প্রভাবশালী মহল নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে আইন ও বিধি ভঙ্গ করে অবৈধ ইটভাটার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশগত ছাড়পত্র, নির্ধারিত চিমনির উচ্চতা এবং প্রয়োজনীয় দূরত্ব উপেক্ষা করে তৈরি হচ্ছে ছোট আকৃতির ইট, যা একদিকে যেমন সরকারি নির্মাণকাজে প্রতারণা, তেমনি অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। জেলা জুড়ে হাওর অঞ্চল খালিয়াজুড়ী বাদে বাকি ৯টি উপজেলাতেই ছড়িয়ে রয়েছে এসব অবৈধ ইটভাটা। অভিযোগ রয়েছে, নেত্রকোনায় নিয়মমাফিক মাত্র ৪টি ইটখোলা বৈধভাবে কাজ করছে। বাকি ভাটাগুলো পরিবেশবান্ধব বিহীন (ক্লিন ফায়ার প্রযুক্তি ছাড়া) পদ্ধতিতে এবং বিধিবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ছোট আকৃতির ইট: প্রতারণার নতুন ফাঁদ -উন্নয়ন কাজের অন্যতম উপাদান হলো ইট। কিন্তু এই ভাটাগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট আকৃতির ইট তৈরি করা হচ্ছে। নির্মাণকাজে এই ছোট ইট ব্যবহার করে মূলত সরকারি নিয়মের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন সুস্পষ্ট বিধিভঙ্গ চললেও তা বন্ধ করতে কার্যত কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সবকিছুই স্থানীয় প্রভাবশালী কুচক্রী মহল ‘ম্যানেজ’ করে নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে সরকারি বিধিমালা ভঙ্গ করে তৈরি করছে ছোট আকৃতির ইট । নিয়ম অনুযায়ী কাঁচা ইট পুড়ানোর হলে তার আকৃতি হতে হবে, লম্বায় ১০ ইঞ্চি, চওড়ায় ৫ ইঞ্চি ও উচ্চতায় ৩ ইঞ্চি ।

জেলার প্রতিটি ইটের ভাটায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে , কেন্দুয়া উপজেলা,সদরের DHAKA ব্রিকস, ,MBB ব্রিকস ও AST ব্রিকস সহ জেলার প্রতিটি ইটের ভাটায় তাদের পুড়ানো ইটের মাপ বা আকৃতি রয়েছে লম্বায় ৮.৫ ইঞ্চি , চওড়ায় ৪.৭৫ ইঞ্চি ও উচ্চতায় ২.৭৫ ইঞ্চি । এতে করে গড়ে এক গাড়িতে প্রায় ২৫০ টি ইট বেশী কিনতে হচ্ছে ‌। ইটের সাথে বালু , সিমেন্ট ও শ্রমিক খরচ বেড়ে চলেছে । ফলে গ্রাহকরা ইট উন্নয়ন প্রতারণার শিকার হচ্ছে আর বেড়েছে তাদের নির্মাণ ব্যয় । ভূক্তভোগী ও স্থানীয় লোকজন কিছু বলতে পারে না ভয়ে , কিছু বললেই তাদের উপর হুমকি ও চাপ । নেত্রকোনা জেলায় একমাত্র সদর উপজেলা বালী গ্রামে MHC ব্রিকস সঠিক নিয়মে তাদের ইট উৎপাদন করছে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, MHC ব্রিকস এর পুড়ানো ইটের মাপ বা আকৃতি রয়েছে লম্বায় ১০ ইঞ্চি, চওড়ায় ৫ ইঞ্চি ও উচ্চতায় ৩ ইঞ্চি । নেত্রকোনার সচেতন মহল জানান , প্রতারণা বন্ধ করে ইটের আকৃতি সঠিকভাবে তৈরি করতে ভাটা মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান । এবং এ বিষয়ে তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান । এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নেত্রকোনা জেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু মাষ্টারের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি । নেত্রকোনার সাধারণ মানুষের দাবী , MHC ব্রিকসের মতো সকল ইট ভাটায় সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সঠিক আকৃতির ইট উৎপাদন করে ।

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের মারাত্মক ঝুঁকি -যে সমস্ত ভাটা চলছে, সেগুলোর বেশিরভাগই নিয়ম ভেঙে লোকালয়, স্কুল-মাদ্রাসা ও বাজারের খুব কাছে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে: * বসতঘর, স্কুল-মাদ্রাসা ও বাজারের পাশে ভাটা স্থাপন করায় জনজীবন বিপর্যস্ত। * চিমনির উচ্চতা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করছে না। * চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে এবং বায়ু দূষণ চরম আকার ধারণ করেছে। * এলাকার কৃষি জমি ও ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। শ্রমিকদের মানবেতর জীবন, শিশু শ্রমের অভিযোগ- বেশ কিছু ভাটায় শিশু শ্রমিক ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন ঘাটতি রয়েছে বলেও জানা গেছে, যা শ্রম আইনকে চরমভাবে লঙ্ঘন করছে।

প্রশাসনের নীরবতা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ : স্থানীয় জনসাধারণ ও পরিবেশকর্মীরা এসব অনিয়ম নিয়ে বারবার অভিযোগ জানালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো, অভিযোগের পরেও প্রভাবশালীরা সবকিছু ম্যানেজ করে চুলায় আগুন জ্বালিয়ে রাখছে। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নেত্রকোনার পরিবেশ এক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ: অবিলম্বে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের এই অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পরিবেশ, জলবায়ু ও উন্নয়নের স্বার্থে এই প্রতারণামূলক ও পরিবেশঘাতী ব্যবসা বন্ধ করা জরুরি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২১ ডিসেম্বর ২০২৫,/সন্ধ্যা ৭:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit