বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

ইরানে হামলা করে অস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, চিন্তায় মিত্ররা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৬ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্রাতিরিক্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলো। পেন্টাগন যে হারে তাদের মজুদ খালি করছে, তাতে মিত্রদের কেনা অস্ত্র সময়মতো সরবরাহ করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা পাঠাতে গিয়ে এমনিতেই ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়েছে। বর্তমানে ইরানের সাথে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সংঘাতের কারণে পেন্টাগন তাদের শিপমেন্টগুলো ডাইভার্ট করছে। এর ফলে পোল্যান্ড ও উত্তর ইউরোপের দেশগুলো ভয় পাচ্ছে যে, রাশিয়ার কোনো সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় তাদের হাতে পর্যাপ্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থাকবে না।

এশিয়ার মিত্র দেশগুলো, বিশেষ করে যারা দক্ষিণ চীন সাগর ও কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, তারা আমেরিকার এই গোলাবর্ষণের হার দেখে আতঙ্কিত। তাদের আশঙ্কা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মজুদ ফুরিয়ে গেলে চীন বা উত্তর কোরিয়া সেই সুযোগ নিতে উৎসাহিত হতে পারে। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক এক এশীয় কূটনীতিক সতর্ক করেছেন, এই পরিস্থিতি ওই অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আমেরিকার কাছে “ভার্চুয়ালি আনলিমিটেড” বা কার্যত সীমাহীন অস্ত্রের মজুদ রয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাট্রিয়ট মিসাইল বা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা কোনো টেসলা গাড়ি তৈরির মতো সহজ নয়। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া যার সাপ্লাই চেইন অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং একটি কারখানা রাতারাতি উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে না।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনের কর্মকর্তারা খোদ কংগ্রেসের কাছে স্বীকার করেছেন যে, ইরান সংঘাতে তারা “ভয়াবহ রকমের উচ্চ” হারে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ এর মতো দামী ও অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো যে হারে ব্যয় হচ্ছে, তা আগে থেকে করা কোনো সামরিক পরিকল্পনার হিসেবে ছিল না।

আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে অনেক দেশ এখন বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব অস্ত্র নির্মাতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে। দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র পোল্যান্ড এখন যুক্তরাষ্ট্রের বদলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ট্যাংক এবং আর্টিলারি কেনা শুরু করেছে। এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য শত শত কোটি ডলারের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদারদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তার দাবি, মার্কিন অভিযানের ফলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার সক্ষমতা ৯০ শতাংশ কমে গেছে এবং এই হুমকি নির্মূল করা মার্কিন ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য ছিল।

তা সত্ত্বেও রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেলসহ অনেক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র একই সাথে রাশিয়া ও চীনকে ঠেকানোর মতো অবস্থায় নেই। ট্রাম্প প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সাথে বৈঠক করে উৎপাদন চার গুণ করার আশ্বাস দিলেও, দক্ষ শ্রমিক এবং কাঁচামালের সংকটে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে।

সূত্র: পলিটিকো

কিউএনবি/অনিমা/০৭ মার্চ ২০২৬,/রাত ৮:৫১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit