শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

পার্বতীপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ ১৫ ডিসেম্বর 

আসাদুজ্জামান আসাদ , দিনাজপুর প্রতিনিধি ।
  • Update Time : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৭০ Time View
আসাদুজ্জামান আসাদ , দিনাজপুর প্রতিনিধি : আজ ১৫ ডিসেম্বর দিনাজপুরের পার্বতীপুর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-সেনার কবল থেকে মুক্ত হয় পার্বতীপুর। ৭ মার্চের পর থেকে সারাদেশের মত পার্বতীপুরেও শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস, স্কুল-কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পার্বতীপুরের সিদ্দিক মহল্লায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।

২৬ মার্চ দেশব্যাপী যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত ট্রেনিং না থাকায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এদেশের কৃষক, ছাত্র, শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, কিশোর, যুবক সংঘবদ্ধ হতে শুরু করে। এরপর তৎকালীন বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রায় আড়াই’শ পুলিশ আর আনছার বাহিনীর সদস্য এসে তাঁবু ফেলে খোলাহাটির আটরাই গ্রামের নুরুল হুদায়। তাদের নের্তৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন আনোয়ার। এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আলাউদ্দীন (৭৬) জানান, অবাঙালিরা নিরস্ত্র বাঙালির উপর ব্যাপক গুলি বর্ষণ করে। এ ঘটনায় বাঙালি ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মা-বোন প্রাণ হারান। পার্বতীপুরে একদিনে তিনশরও বেশি লোককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পার্বতীপুর উপজেলার আরেক মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন (৭৮) জানান, ৮ এপ্রিল সবচেয়ে বেশি গণহত্যার ঘটনা ঘটায় পাক সেনারা। ১৩ ডিসেম্বর ভবানীপুর, হাবড়া, বেলাইচন্ডি, খোলাহাটি, হরিরামপুর এলাকার রাজাকার ও পাকসেনাদের ক্যাম্পগুলো মক্তিযোদ্ধাদের হাতে আক্রান্ত হলে হানাদার বাহিনী পার্বতীপুর ছেড়ে চলে যেতে শুরু করে। ১৪ ডিসেম্বর প্রথম ভারতীয় বিমান বাহিনী পার্বতীপুরে বোম্বিং করে। এতে পার্বতীপুর রেলওয়ের তেলের ট্যাংকে আগুন ধরে ধ্বংস হয়ে যায়। পাক সেনাদের শেষ সামরিক গাড়িটির পলায়ন পথে বেলাইচন্ডির অদূরে বান্নির ঘাটে মুক্তিযোদ্ধাদের পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে উড়ে যায়।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পার্বতীপুর এলাকা থেকে ১৫ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীরা পালিয়ে গেলে পার্বতীপুর শক্র মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি স্বরূপ পার্বতীপুরে রেল স্টেশনের উত্তর দিকে ‘৭১ এর গণকবর এর পার্শ্বে পরে পার্বতীপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্লোল কুমার চক্রবর্তীর উদ্যোগে ও স্থানীয় সুধীজনের সহযোগিতায় ‘বধ্যভূমি স্মৃতি সৌধ’ নির্মান করা হয়। প্রতিবছর ১৫ ডিসেম্বর পার্বতীপুরবাসী ‘বধ্যভূমি স্মৃতি সৌধে’ পুস্পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পার্বতীপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালন করে থাকে।

কিউএনবি/আয়শা/১৫ ডিসেম্বর ২০২৫,/বিকাল ৫:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit