রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
করাচির এক হাসপাতালে তিন বছর বয়সীসহ ৮০ শিশু এইডসে আক্রান্ত ৯ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা প্রার্থিতা ফিরে পেলেন খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম মধ্যপ্রাচ্যে একযোগে ৫ দেশে ইরানের অতর্কিত হামলা বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কারিগরির ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ২৩ জুলাই ‘জমির উদ্দিন সরকার শুধু রাজনীতিবিদ নন, ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান’ রাতে ঢাকাসহ ২০ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন

‘ধুরন্ধর’ সিনেমা নিয়ে কেন পাক-ভারত বিতর্ক?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১২৮ Time View

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর)। এ সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ঝড় তুললেও শুরু হয়েছে পাক-ভারত বিতর্ক। আদিত্য ধর পরিচালিত এ সিনেমাটি মুক্তির পর দিন থেকেই তরতর করে আয় বেড়ে চলেছে। এ ক্ষেত্রে রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি আয়ের দিক থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা। সেই পাল্লা দিয়ে চলেছে সমালোচনা। 

এ সিনেমার আয় যেমন দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে, ঠিক তেমনই সামাজিক মাধ্যমে চলছে বিতর্কও। কেউ সিনেমার সঙ্গে খুঁজে পেয়েছেন বাস্তব চরিত্রের মিল। আবার কোনো সমালোচকের সিনেমাটি পছন্দ হয়নি। যাদের পছন্দ হয়নি, তারা অন্তর্জালে প্রবল বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন। এমনকি রিভিউ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছে। কিন্তু কী আছে সেই সময়ের ব্যাপক আলোচিত সিনেমাটিতে?

সিনেমাটি মুক্তির পর অনেকেই দাবি করেছেন— রণবীর সিং অভিনীত ‘হামজা’ চরিত্রটি তৈরি হয়েছে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা মোহিত শর্মার আদলে। মুক্তির আগেই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল— পরিচালক আদিত্য ধরের এই সিনেমার গল্প নাকি প্রয়াত মেজর মোহিত শর্মার জীবনের সঙ্গে অনেকটাই মিল। অথচ তাকে যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়া হয়নি— এমন অভিযোগ তুলেছিলেন মেজর শর্মার মা। 

এর আগে ২০০৪ সালে এক গোপন অভিযানে হিজবুল মুজাহিদীনের দলে ‘ইফতিখার ভাট’ নামে ছদ্মবেশে মোহিত শর্মা ঢুকে দুই জঙ্গিকে নির্মূল করেন। সেই বীরত্বের জন্য তিনি পান সেনা মেডেল। মেজর শর্মার পরিবার নাকি দিল্লি হাইকোর্টে সিনেমার উপস্থাপন নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। পরে ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ড ও পরিচালক জানান, সিনেমাটি তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়।

এ সিনেমা রেহমান ডাকাত চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না। সত্যিই কি ‘ধুরন্ধর’-এ কুখ্যাত পাকিস্তানি মাফিয়া রেহমান ডাকাতের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি? এমন দাবিও তোলা হয়েছে। এ নিয়ে সিনেমার নির্মাতাদের পক্ষ থেকে কোনো কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে রেহমান ডাকাতের আসল নাম ছিল সর্দার আবদুল রেহমান বালুচ। খুব কম বয়সেই অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন।রেহমান ডাকাত লটারির অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। 

সিনেমায় রেহমান ডাকাতকে এক বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা আসলে বাস্তবতাবিবর্জিত। এ জন্য পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো দেশটির নির্মাতাদেরও দায়ী করেছেন। কারণ তারা কেবল পর্দায় রোমান্টিক ড্রামাই বানান, সত্যিকারের অপরাধের ঘটনাগুলো নিয়ে সিনেমা-সিরিজ বানান না।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী আসলাম নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এসব গ্যাং ভাঙার জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি শহরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন। এর পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছেন। তিনি এ ঘটনাগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন, কোনো বিদেশি নায়কের সহায়ক নয়, যা হয়তো এ সিনেমায় দেখানো হয়েছে।

এদিকে মুক্তির মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই অ্যাকশন-ড্রামা পেরিয়ে গেছে ২০০ কোটির রুপির মাইলফলক। যদিও আদিত্য ধর ২০১৯ সালে তার প্রথম পরিচালিত সিনেমা উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক  রেকর্ড ভাঙার দিকেই তাকিয়ে আছেন, যার আয় ছিল ২৪৪ কোটি রুপি। বক্স অফিস–বিশ্লেষক সংস্থা স্যাকনিকের হিসাব অনুযায়ী, সাত দিনে ভারতেই সিনেমাটি সংগ্রহ করেছে ২০৭ কোটি রুপি।

‘ধুরন্ধর’-এ অতি জাতীয়তাবাদ, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব দেখানো হয়েছে—এমন অনেক কারণে এটা পছন্দ করেননি কোনো কোনো সমালোচক। কিন্তু সিনেমাটিকে যারা নেতিবাচক রেটিং দিয়েছেন, তাদের বিদ্রূপ ও কটাক্ষ করা হয়েছে অন্তর্জালে। কেবল তা–ই নয়, তাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। সেটা এতটাই যে প্রখ্যাত সমালোচক অনুপমা চোপড়া দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া থেকে তার ‘ধুরন্ধর’-এর ভিডিও রিভিউ সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

অনুপমা চোপড়ার রিভিউয়ের সমালোচকদের মধ্যে ছিলেন অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। অনুপমা চোপড়া নিজের রিভিউতে লিখেছিলেন, ‘পরিচালক বাস্তব ঘটনাগুলো যেমন কান্দাহার হাইজ্যাক, ২০০১ সালের পার্লামেন্ট হামলা ও ২৬/১১-এর মুম্বাই হামলার আসল রেকর্ডিং-ব্যবহার করেছেন গল্পে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য। তবে বাস্তব আর কল্পনার মিশ্রণ উভয়ই ঝুঁকিপূর্ণ এবং কিছুটা অগোছালো প্রমাণিত হয়েছে।’ তবে সমালোচনার মুখে রিভিউ প্রত্যাহার করা হলেও অনুপমা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এভাবেই ট্রলের মুখে পড়েছেন সুচারিতা ত্যাগী, রাহুল দেশাইয়ের মতো পরিচিত সমালোচকও।

এবার ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন অভিনেতা হৃতিক রোশন। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে হৃতিক লিখেছেন— ‘আমি সিনেমা ভালোবাসি। আমি তাদের ভালোবাসি যারা গল্পের মধ্যে নিজেকে সঁপে দেয়, যা আপনাকে ঝাঁকুনি দেয়। ‘ধুরন্ধর’  এমনই একটি উদাহরণ। গল্প বলার ধরন অসাধারণ, এটি সত্যিকারের সিনেমা।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি হয়তো এর রাজনৈতিক দিকের সঙ্গে একমত নই। চলচ্চিত্রকার হিসেবে আমাদের এটা নিয়ে বিতর্ক করতে পারি। এরপরেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ট্রলের শিকার হন হৃতিক রোশান। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে এমনও বলেছেন, ‘রাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে একমত নন। তবে কি আপনি পাকিস্তানপন্থি? অনেকে আবার যশরাজের স্পাই ইউনিভার্সের সিনেমায় হৃতিকের অভিনয় প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন, যেখানে পাকিস্তানি এজেন্টের সঙ্গে ভারতীয় এজেন্টের প্রেম দেখানো হয়। প্রবল বিতর্কের মধ্যে গতকাল আরেকটি পোস্ট করে ক্ষতকে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন হৃতিক রোশান কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে।

এটা সমালোচনা শুধু ভারতের মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়; পাকিস্তানেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেক পাকিস্তানি বিশ্লেষক ও দর্শক মনে করছেন, সিনেমার চরিত্রগুলোতে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে। বলি সিনেমায় বরাবরই ভারতীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের নায়কোচিতভাবে দেখানো হয়। ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাতেও হয়তো সেটাই করা হয়েছে। 

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে— করাচির গ্যাংস্টারের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল একেবারেই স্থানীয় ঘটনা। যার মূল কারণ ছিল দারিদ্র্য, রাজনৈতিক উদাসীনতা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য।

‘ধুরন্ধর’ সিনেমার গল্প ঠিক এমন—

১৯৯৯ সালে কান্দাহারে একটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা দিয়ে শুরু হয় সিনেমা। এ সিনেমায় দেখানো হয়েছে ভারতের পার্লামেন্ট ভবন ও মুম্বাই হামলাও। সব মিলিয়ে দেখানো হয়, পাকিস্তানের মদদে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভারতে হামলা চালাচ্ছে। ভারতীয় সংস্থা র ঠিক করে, প্রচলিত ব্যবস্থায় এসব হামলা ঠেকানো যাবে না। সংস্থাটি নিজেদের চৌকস এজেন্ট হামজাকে (রণবীর সিং) পাকিস্তানের করাচির লিয়ারে শহরে পাঠায় সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে। কিন্তু কাজটা সহজ নয়, একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন তিনি।— এই হলো সিনেমার গল্প।

 সিনেমাটিতে টান টান রোমাঞ্চ ও অ্যাকশন আর দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হয়েছে সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। অনেক সমালোচকও মনে করেন, মূল ধারার বাণিজ্যিক সিনেমার আড়ালে ‘ধুরন্ধর’-এ যেভাবে ভূরাজনীতির বিভিন্ন বিষয় সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে, সেটি তারিফ করার মতো। এ সিনেমায় অভিনেতা রণবীর সিং ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রাজপাল, সারা অর্জুন, আর মাধবন প্রমুখ।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৩ ডিসেম্বর ২০২৫,/রাত ১১:১৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit