পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ তার বন্দরগুলোতে পাকিস্তানি রপ্তানির জন্য ১০০% পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়েছে।
ইসহাক দার এই পদক্ষেপকে “দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণের বড় অগ্রগতি” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এতে দুই দেশের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং কাস্টমস বিলম্ব কমে পণ্য প্রবাহ আরও নির্বিঘ্ন হবে।
তিনি জানান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠক ২৭ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ২০০,০০০ মেট্রিক টন চাল রপ্তানির প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৫০,০০০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার জানান, এই কাঠামোর আওতায় পরবর্তী মাসগুলোতেও চাল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
দারের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ২০০-রও বেশি পাকিস্তানি কোম্পানি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোতে অংশ নিয়েছে। এতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও উৎপাদন খাতে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার হয়েছে।
লিখিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,শিপিং পরিষেবার পরিপূরক হিসেবে দুই দেশ এখন সরাসরি বিমান চলাচল শুরু করার দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। ইসহাক দার জানান, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে দুইটি পাকিস্তানি বেসরকারি বিমান সংস্থাকে ঢাকা–করাচি রুটে ফ্লাইট চালুর অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে ফ্লাইটের সময়সূচী ও সরবরাহ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এসব উদ্যোগ ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করবে।