শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রংপুরে সপরিবারে শিক্ষক হত্যা: গ্রেপ্তার ২ আসামির ডিএনএ শনাক্ত প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে লাটভিয়ার দুই নাগরিক গ্রেফতার ঘাড় মটকে হত্যা, কার্টনে ভরে নীলফামারীতে নেওয়া হয় রাকিবের লাশ স্বপ্ন পূরণে শাড়ি পরেই খালি পায়ে দৌড়ালেন ১,৬০০ কিলোমিটার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ছাড়বে না ইরান, মজুতও হস্তান্তর করবে না বিদ্যুৎ উৎপাদনে চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর, অনুমোদন দিলো বায়েরা আগামী ৫ বছরে ২ কোটি মানুষকে উন্নত চক্ষুসেবা দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী মুহিত মুক্তির ২৩ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ ভিউ! শুরুতেই চমকে দিল ‘ফিরে আসার গল্প’ আইএসইউতে দ্যা ফিট অ্যান্ড ফ্যাশন ফিয়েস্তা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

মনিরামপুরে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ২০৬ Time View

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : মনিরামপুরের ঝাঁপা ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়নকল্পে ৩টি সংস্থা থেকে ১৩টি প্রকল্পের বিপরীতে চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দ করা হয় প্রায় ৩৩ লাখ টাকা। আর এসব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ৩০ জুন সমুদয় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে নয়ছয় করে দু-একটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হলেও অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। সরেজমিন গিয়ে প্রকল্প সমুহের খোঁজখবর নিয়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সাথে আলাপ করে উন্নয়নের নামে ১৩ প্রকল্পের অধিকাংশ টাকা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগবাটোয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে।


জানাযায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর ঝাঁপা ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শামছুল হক মন্টু আত্মগোপনে চলে গেলে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার রেজাউল হককে ইউপি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ইউনিয়নের উন্নয়ন কল্পে তিনটি সংস্থা থেকে বরাদ্দ করা হয় ৩২ লাখ ৯৪ হাজার ২’শ টাকা। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে পাঁচটি প্রকেল্পর জন্য ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৩’শ টাকা। এডিবি থেকে তিনটি প্রকল্পে ৯ লাখ ৩ হাজার ৯’শ টাকা এবং বিবিজি থেকে পাঁচ প্রকল্পে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। নিয়ম রয়েছে সব কাজ সম্পন্ন করে গত ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলনের।

খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে, গত ৩০ জুনের মধ্যে সব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিন গিয়ে পাওয়া যায় ভিন্ন চিত্র। ১৩ প্রকল্পের মধ্যে নামকাওয়াস্তে তিনটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ঝাঁপা বাওড়পাড়ের রেষ্টহাউজটি সংষ্কার ও টয়লেট নির্মানের জন্য উন্নয়ন তহবিল থেকে বরাদ্দ হয় ৬লাখ টাকা। কিন্তু দেখাযায় রেষ্টহাউজের ভেতরে দুইটি দেওয়াল ও পুরাতন টয়লেটটি সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া দেওয়া হয়েছে একটি সোফাসেট আর করা হয়েছে রং। স্থানীয় আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ী জানান, রেষ্টহাউজে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। কিন্তু উত্তোলন করা হয়েছে ৬ লাখ।

অপরদিকে বিবিজি থেকে পাঁচটি প্রকল্পের জন্য ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। ইতোমধ্যে সমুদয় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। পাঁচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মতলেব এন্ড সন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আমির হোসেন বলেন, আমার লাইসেন্সের নামে পাঁচটি কাজ দেখানো হলেও বাস্তবায়ন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের জন্য একটি ডেক্সটপ কম্পিউটার, একটি ফটোষ্ট্যাট মেশিন, একটি টেবিল ও একটি আলমারি ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ হয় ২ লাখ সাত হাজার ২’শ টাকা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে পুরাতন ফটোষ্ট্যাট, কম্পিউটার ও টেবিলটি নতুন করে ক্রয়ের ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে। তবে আলমারি এখনও ক্রয় করা হয়নি।

অন্যদিকে চেয়ার টেবিল ক্রয়ের জন্য আবার এডিবি থেকে আরো ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। একই কাজের জন্য দুই প্রকল্প থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।এ ছাড়াও এডিবি থেকে কোমলপুর বাজারে টয়লেট নির্মান ও পানি সরবরাহের জন্য বরাদ্দ হয় ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৯’শ টাকা। সমুদয় টাকা উত্তোলন করা হলেও এখনও নির্মান সম্পন্ন হয়নি। অভিযোগ রয়েছে মাত্র দুইদিন আগে টয়লেট নির্মান শুরু হয়েছে স্থানীয় বাজার কমিটির নেতৃত্বে। কিন্তু এখানেও শুভাঙ্করের ফাকি দেওয়া হয়েছে। বাজার কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, এ পর্যন্ত ইউএনও অফিস থেকে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয় এক রাজমিস্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টয়লেটটি নির্মান করতে সর্বোচ্চ খরচ হবে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। একই দৃশ্য চোখে পড়ে ঝাপা বাজারে মাছহাটের টিনের ছাউনি নির্মানের ক্ষেত্রে। মাছ বিক্রেতা রবীন বিশ^াস জানান, টিনের ছাউনি দিতে সর্বোচ্চ খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। অথচ বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা। অন্যদিকে ষোলখাদা বাজারে টয়লেট নির্মান শুরু হয় মোতলেব হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির জমিতে। পরে আবার সেটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। এখনও টয়লেট নির্মান করা হয়নি।

তবে এ সব অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে ঝাঁপা ইউপি প্রশাসক রেজাউল হক জানান, সব প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করা হবে। উন্নয়ন তহবিল ও এডিবির প্রকল্প দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী অফিস। অভিযোগ রয়েছে তারাও এ ভাগবাটোয়ার অংশিদার হওয়ায় সঠিকভাবে দেখভাল করেননি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, প্রকল্প সমুহের মধ্যে কিছু কাজ ইউএনও অফিস ও ইউপি পরিষদ দেখভাল করছেন। তবে কাজের গুনগতমানে ত্রুটি করার কোন সুযোগ নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, যতদুর জানি প্রকল্পের কাজ সমুহ ভালো হচ্ছে। তার পরও অভিযোগসমুহ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা//১৫ জুলাই ২০২৫,/রাত ৮:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit