আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদন্তের আওতায় ও সম্ভাব্য গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখোমুখি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এই যাত্রায় তিনি স্বাভাবিক রুট ব্যবহার না করে অনেকটা দীর্ঘ পথ ঘুরে তবেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, নেতানিয়াহু রোববার রাতেই ওয়াশিংটনে পৌঁছান। তবে এ যাত্রায় তাকে ৪০০ কিলোমিটার ঘোরা পথে যেতে হয়। যাতে তিনি এমন কোনো দেশের আকাশসীমায় না পড়েন, যে সব দেশ আইসিসি’র গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন ছিল যে, যদি নেতানিয়াহুর বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়, তাহলে আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসের মতো এমন কিছু ইউরোপীয় দেশ রয়েছে, যারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করতে পারে।
এই ঝুঁকি এড়াতেই নেতানিয়াহুর সফরের রুটে পরিবর্তন আনা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইউরোপীয় দেশগুলোর আকাশ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিবর্তে, তিনি ভিন্ন একটি রুটে যাত্রা করেন। এই রুটটি ছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশ ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর উপর দিয়ে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পক্ষ থেকে গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সূত্রমতে, তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারি পরোয়ানাও প্রস্তুত হতে পারে। সেটি কার্যকর হলে যেকোনো সদস্য রাষ্ট্রে প্রবেশ করলেই তিনি গ্রেফতার হতে পারেন।
আইসিসি কী করতে পারে?
আইসিসি একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল। এই আদালত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও আগ্রাসনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করে। এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাধ্যতামূলকভাবে আইসিসির পরোয়ানা মানতে ও প্রয়োগ করতে বাধ্য।
যদিও সম্প্রতি হাঙ্গেরি এর সদস্য পদ প্রত্যাহার করে নেয় এবং দেশটিতে সফর করা নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করতে অস্বীকৃতি জানায়।
কিউএনবি/আয়শা/০৭ এপ্রিল ২০২৫,/সন্ধ্যা ৭:২৪