সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

শীতের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৬৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : মুফতি আবদুল্লাহ তামিম

এ ঋতুতে শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো, নামাজ-অজুর প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং দান-খয়রাতে সম্পৃক্ত হওয়া বিশেষভাবে ফজিলতপূর্ণ।

শীতকাল ও ইবাদতের বিশেষ সুযোগ

শীতকালে দিন ছোট হওয়ার কারণে সহজেই বেশি বেশি রোজা রাখা যায়। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 

শীতকালের রোজা বিনা পরিশ্রমে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের অনুরূপ (সুনানে তিরমিজি)। অন্যদিকে, রাত বড় হওয়ায় দীর্ঘ সময় নামাজে কাটানো যায়। আল্লাহ বলেন, তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত (সুরা জারিয়াত: ১৭-১৮)।

এছাড়া, শীতকালে অজু ও গোসলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কঠিন শীতেও সঠিকভাবে অজু করা মুমিনদের পাপ মোচনের কারণ। রসুল (সা.) বলেন, ‘কষ্টকর মুহূর্তেও ভালোভাবে অজু করা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম’ (সহিহ মুসলিম)।

শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো

শীতকালে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে। তাদের জন্য গরম কাপড় ও খাদ্য প্রদান একটি বড় ইবাদত। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে মুমিন অন্য বিবস্ত্র মুমিনকে কাপড় পরাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের সবুজ কাপড় পরাবেন (আবু দাউদ)। মিসকিন, ইয়াতিম ও বন্দীদের খাদ্য দান করার বিষয়েও কুরআনে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে (সুরা আদ দাহর: ৮)।

নফল ইবাদতের গুরুত্ব

শীতকাল নফল ইবাদতের জন্য বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। বিশেষত, কিয়ামুল লাইল এবং তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সময় বেশি পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতের শেষ ভাগে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বান্দার দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার ডাক গ্রহণ করেন (সহিহ বুখারি)। এই সময় দোয়া, ইস্তেগফার এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনার গুরুত্ব অপরিসীম।

রোজা ও দানের ফজিলত

বিশুদ্ধ নিয়তে রোজা রাখা শুধু জান্নাতের কারণই নয়, বরং এটি জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্ব সৃষ্টি করে (সহিহ বুখারি)। শীতকালে সংকটাপন্ন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে দান করা, তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা, এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া মহান কাজ।

শীতকাল প্রকৃত অর্থেই মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল। এ ঋতুর প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোজা রাখা, কিয়ামুল লাইল করা, শীতার্তদের সহায়তা করা এবং অজু-গোসলের ব্যাপারে সতর্ক থাকা আমাদের দায়িত্ব। এ সময়ের ইবাদতগুলো সহজ হলেও ফজিলতে ভরপুর। আল্লাহর কাছে দোয়া, ইবাদত এবং সৎ আমল বাড়িয়ে নিকটবর্তী হওয়া শীতকালীন সময়ের এক মহৎ সুযোগ। রসুল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের আমল অনুসরণ করে আমাদেরও উচিত এই ঋতুকে ইবাদতের মাধ্যমে সফল করে তোলা।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২১ ডিসেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit