শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন

কুরআন-হাদিসের আলোকে মস্তিষ্কের যত্ন

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ Time View

ডেস্ক নিউজ : মানবদেহের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি হলো মস্তিষ্ক। এটি মানুষের পরিচয়, চিন্তা, বিবেক, স্মৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা ও মানসিক প্রশান্তির ওপর। ইসলামও মানুষকে এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থার শিক্ষা দেয়, যা মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

আল্লাহর দেওয়া বিশেষ নিয়ামত ও চিন্তাশক্তি : মস্তিষ্ক ও বিবেক আল্লাহর এক মহান অনুদান। এর মাধ্যমেই মানুষ সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা লাভ করেছে (সূরা আল-ইসরা : ৭০)। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বারবার মানুষকে চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছেন-‘নিশ্চয়ই আসমানগুলো ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে… জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে’ (সূরা আল ইমরান : ১৯০)। গবেষণা ও নতুন কিছু শেখার অভ্যাস মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমায়।

জ্ঞান অর্জন ও অনুভূতির জবাবদিহি : রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ’ (ইবনে মাজাহ : ২২৪)। যে কোনো বয়সে নতুন কিছু শেখা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নত করে। তবে আমাদের মনে রাখা দরকার, চিন্তা ও সিদ্ধান্তের সঠিক ব্যবহারের হিসাবও দিতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর-এসবের প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে’ (সূরা আল-ইসরা : ৩৬)।

মানসিক প্রশান্তি, ঘুম ও সুষম খাদ্য : অতিরিক্ত মানসিক চাপ মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। জিকির, নামাজ ও তিলাওয়াত মানসিক প্রশান্তি জোগায় (সূরা আর-রা’দ : ২৮)। পাশাপাশি, মস্তিষ্কের কোষ পুনর্গঠনে পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য (সূরা আন-নাবা : ৯)। খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অপচয় ও অতিভোজন পরিহার করে পরিমিত ফল, সবজি ও বাদামজাতীয় খাবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় (সূরা আল-আ’রাফ : ৩১)।

নেশা ও রাগের কুফল থেকে রক্ষা : মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো নেশা ও অতিরিক্ত রাগ। ইসলাম মদ ও মাদক সম্পূর্ণ হারাম করেছে (সূরা আল-মায়িদা : ৯০)। যা মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি ও বিচারবোধ নষ্ট করে। একইভাবে, ক্ষতিকর রাগ সংবরণের নির্দেশ দিয়ে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘রাগ করো না’ (সহিহ বুখারি : ৬১১৬)। রাগ নিয়ন্ত্রণ মস্তিষ্কের আবেগীয় ভারসাম্য বজায় রাখে।

শরীরের যত্ন ও চিকিৎসা গ্রহণ : রাসূল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমার শরীরেও তোমার ওপর অধিকার রয়েছে’ (সহিহ বুখারি : ৫১৯৯)। শারীরিক ব্যায়াম ও সক্রিয় জীবন মস্তিষ্ক রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। রোগ হলে অলসতা না করে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা ইসলামেরই নির্দেশ (আবু দাউদ : ৩৮৫৫)। বিশেষ করে স্ট্রোক (মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা অবশ হওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া) কিংবা ডিমেনশিয়ার মতো জরুরি স্নায়বিক সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

আমাদের অঙ্গীকার হোক আল্লাহর দেওয়া এ নিয়ামতের সঠিক যত্ন নেব, মাদক ও মানসিক চাপমুক্ত থেকে সুস্থ ও কল্যাণময় জীবন গড়ে তুলব।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৫ জুলাই ২০২৬,/বিকাল ৪:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit