রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নতুন পে স্কেলে কার বেতন কত হবে, যেভাবে হিসাব করবেন মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদিকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা বাস্তবায়নে কারিকুলাম প্রস্তুত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি খাবারের পর এক টুকরো আনারস হতে পারে হজমের সহায়ক সব সময় ক্লান্ত লাগে? এক চামচ কালো তিলেই মিলতে পারে শক্তি এবার সরাসরি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণ আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকা নিয়ে মুখ খুললেন স্কালোনি ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? অপ্রতীম হত্যাকাণ্ড: নিরাপত্তা দিতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি সাদিক কায়েমের যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালি: ইরান

কুরআনের যে বাণীটি আপনার মনকে শান্ত করে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : জীবনের কোনো না কোনো মোড়ে এসে আমরা সবাই কমবেশি থমকে দাঁড়াই। চারপাশের ক্লান্তি, হতাশা আর দীর্ঘ অপেক্ষা যখন মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে, তখন একফোঁটা প্রশান্তির বাণী আমাদের পুরো জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে। ঠিক তেমনই একটি হৃদয়জুড়ানো, আত্মায় প্রশান্তি আনা বাণী নিয়ে আজকের লেখা।

সহানুভূতির এক স্বর্গীয় স্পর্শ: ধৈর্য ও আল্লাহর তত্ত্বাবধান

জীবনের প্রতিটি ঝড়ের মাঝে স্থির থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এই বিশ্বাস রাখা যে— আমরা একা নই। যখন চারপাশের সব দরজা বন্ধ মনে হয়, তখন মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের আশ্বস্ত করে ধৈর্য ধরতে বলেন। কারণ, তিনি সব দেখছেন। কুরআন মাজিদে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অত্যন্ত মমতাময় ভাষায় ইরশাদ করেন—

وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا

‘তুমি ধৈর্য ধরে তোমার রবের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকো; তুমি তো আমার চোখের সামনেই আছো!’ (সুরা আত-তুর: আয়াত ৪৮)

ভাবুন তো একবার! বিশ্বজগতের মহান সৃষ্টিকর্তা নিজে যখন বলছেন—‘তুমি তো আমার চোখের সামনেই আছো’, তখন একজন মুমিনের অন্তরে কি আর কোনো ভয় বা হতাশা থাকতে পারে? এই একটি বাণীই যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

অপেক্ষার শেষপ্রান্তে অফুরন্ত পুরস্কার

ধৈর্য ধরা সহজ নয়, তবে ধৈর্যের ফল সবসময়ই মিষ্টি হয়। আমাদের জীবনের প্রতিটা কঠিন মুহূর্ত, প্রতিটা চোখের জল এবং নীরব অপেক্ষাকে আল্লাহ তাআলা সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করেন। কুরআনে ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ আরও বলেন—

إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ

‘কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে অগণিত ও হিসাব ছাড়া।’ (সুরা যুমার: আয়াত ১০)

আমরা যখন আল্লাহর ওপর ভরসা করে সবর করি, তখন তিনি আমাদের এমনভাবে প্রতিদান দেন যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজের জীবনে অসংখ্য পরীক্ষা ও কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু তিনি সবসময় ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে বিপদে শান্ত থাকতে হয়। ধৈর্যের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

 … وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ، وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ

‘…যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন। আর ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও কল্যাণকর কিছু কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (বুখারি ১৪৬৯, মুসলিম ১০৫১)

পরিশেষে বলা যায়, কষ্ট বা পরীক্ষার দিনগুলো চিরস্থায়ী নয়। রাতের আঁধার কেটে যেমন ভোরের আলো ফোটে, তেমনি প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতির পর স্বস্তি আসে। যখনই মন খারাপ হবে বা ক্লান্তি আপনাকে ঘিরে ধরবে, তখনই মনে করিয়ে দিন— আপনার রব আপনাকে দেখছেন, তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার প্রতিটা নীরব অপেক্ষার হিসাব তার কাছে সংরক্ষিত আছে।

আসুন, আমরা আমাদের সব দুঃখ-কষ্ট ও অপেক্ষাকে আল্লাহর সোপর্দ করি এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি। আলহামদুলিল্লাহ!

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৩৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit