সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

প্রিয় নবীর সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে মুক্তি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ৭০ Time View

ডেস্ক নিউজ : সুন্নাতে রসুল পালন করার মধ্যে রয়েছে আমাদের জন্য হেদায়েত ও মুুক্তি। প্রিয় নবী (সা.) কোন কাজ কীভাবে করেছেন আমাদেরও সেই কাজ সেভাবে করতে হবে। রসুল (সা.) যেভাবে নামাজ পড়েছেন আমাকে সেভাবে নামাজ পড়তে হবে। প্রিয় নবী (সা.) যেভাবে খাওয়াদাওয়া করেছেন আমাকে সেভাবে খাওয়াদাওয়া করতে হবে।

পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক উল্লেখ করেছেন, ‘হে নবী আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে মহান আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের জীবনের সব গুনাহ মাফ করে  দেবেন। আল্লাহ অতিশয় দয়ালু মেহেরবান।’ এই আয়াতের মূল কথা হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভালোবাসতে চায় সে যেন প্রিয় নবী (সা.)-এর অনুসরণ করে। আর যে ব্যক্তি রসুল (সা.)-এর অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে দুটি পুরস্কার দেবেন। তবে পুরস্কার  দুটি এত দামি যে এর চেয়ে দামি কোনো পুরস্কার হতে পারে না।

পুরস্কার দুটির প্রথমটি হলো স্বয়ং আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসবেন। আর দ্বিতীয়টি হলো আল্লাহ আপনার জীবনে সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। এই দুটি পুরস্কার যদি কেউ পেয়ে যায় তাহলে তার জীবনে আর কোনো পুরস্কারের দরকার নেই। পুরস্কার দুটি পাওয়া যাবে প্রিয় নবী (সা.)-এর সুন্নত পালন করলে। এই আয়াত দ্বারা আরও বোঝা গেল, আল্লাহর ভালোবাসার মানদণ্ড হলো রসুলের সুন্নত পালন করা। যার মধ্যে যত বেশি রসুলের সুন্নত থাকবে সে তত বেশি আল্লাহর ভালোবাসা পাবে। সঙ্গে সঙ্গে এটাও প্রমাণিত হলো যে নবী (সা.)-এর সুন্নত পালন করা গেলে সবচেয়ে বড় সফলতা অর্জিত হবে। আল্লাহপাক স্বয়ং ভালোবাসবেন- এটা তো সব মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। হাদিসে পাকে সুন্নতে রসুলের অনুসরণের প্রতি ব্যাপকভাবে তাগিদ দেওয়া  হয়েছে। হজরত ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, একবার রসুল (সা.) আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। তারপর আমাদের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং এমন হৃদয়স্পর্শী আলোচনা করলেন যে এতে আমাদের অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল এবং অন্তর ভয়ে কম্পমান হয়ে গেল। এ অবস্থায় এক লোক বলল, ইয়া রসুলুল্লাহ! এটা যেন কোনো বিদায় দানকারীর উপদেশ। তাই আমাদের আরও কিছু অসিয়ত করুন। তিনি তখন বললেন, ‘আমি তোমাদের তাকওয়া অবলম্বন ও আমিরের আনুগত্যের অসিয়ত করছি। এমনকি আমির যদি কোনো হাবশি ক্রীতদাসও হয়। মনে রেখ! আমার পরে যারা বেঁচে থাকবে তারা অনেক মতবিরোধ দেখবে। অতএব তোমরা আমার এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীনের (সঠিক পথ প্রাপ্ত চার খলিফা) সুন্নতকে অবলম্বন করে থাকবে, যারা হেদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রিয় নবীর সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে মুক্তিতোমরা এই সুন্নত ও আদর্শকে ধরে থাকবে এবং মজবুতভাবে তা পালন করবে। ইসলাম ধর্মে নতুন উদ্ভাবিত যেকোনো মতাদর্শ থেকে দূরে থাকবে। কেননা প্রতিটি নতুন মতাদর্শই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতার কারণ। মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ।

এ হাদিস থেকে বোঝা গেল, সব সময় বিদআত থেকে দূরে থাকতে হবে। ইসলাম ধর্মের নামে সমাজে নতুন কিছু চালিয়ে দেওয়া বা চাপিয়ে দেওয়াই হলো বিদআত। অপর হাদিসে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রসুল (সা.) আমাকে বলেছেন, হে বৎস! তুমি যদি সকাল-সন্ধ্যা এভাবে থাকতে পার যে তোমার অন্তরে কারও প্রতি হিংসা ও অকল্যাণ চিন্তা নেই, তাহলে তাই কর। তারপর তিনি বললেন, এটা হচ্ছে আমার সুন্নত ও নীতি। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালোবাসে, সে আমাকেই ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসল সে জান্নাতে আমার সঙ্গেই থাকবে। তিরমিজি। আরেকটি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ফেতনা-ফাসাদের জমানায় আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরবে তার জন্য রয়েছে ১০০ শহীদের সওয়াব। অর্থাৎ যে ব্যক্তি শেষ জমানায় নিজের জীবনকে সুন্নত দিয়ে সাজাবে, সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে সকাল সব কাজ প্রিয় নবীর (সা.) তরিকা অনুযায়ী করবে, আল্লাহ তাকে ১০০ শহীদের সওয়াব দেবেন। শেষ জমানায় সুন্নতের প্রতি অটল থাকলে এত বড় পুরস্কার এজন্য যে এমন একটা পরিস্থিতি তখন সৃষ্টি হবে, মানুষ নবীর (সা.) সুন্নতের প্রতি ব্যাপক অবহেলা করবে। সমাজে সুন্নত পালনকারীর প্রতি বিদ্রুপ করা হবে। তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। এমন কঠিন সময়ে সুন্নত পালন করলে এত বড় পুরস্কার পাওয়া যাবে।

♦ লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা

কিউএনবি/অনিমা/২২ জুলাই ২০২৬,/সকাল ১০:৪৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit