জালাল আহমদ, ঢাবি : ছাত্রলীগ-ডান-বাম মিশ্রিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের ঢাউস কমিটিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন হয়নি! কমিটিতে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত,নবাগত, ছাত্রলীগ- ডান- বাম ঘেঁষা কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়নের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হলে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
জানা যায়, গত ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে সভাপতি হন গণেশ চন্দ্র রায় এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। এ কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে ছিলেন মাসুম বিল্লাহ, সহসভাপতি হিসেবে আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাছির উদ্দীন শাওন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শামীম আক্তার শুভ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নূর আলম ভূঁইয়া ইমন ছিলেন।
শেখ হাসিনার পতনের আগে আংশিক কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্র ঘোষিত কোন মিছিল মিটিং করতে পারেনি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে সরকার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিশ্ববিদ্যালয় এবং হল শাখার ত্যাগী নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ বিরতির পর গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের ২৪২ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।এতে ১৪ জনকে সহসভাপতি, ৪৩ জনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সাধারণ সম্পাদক, ৩৯ জনকে সহ-সাংগঠনিক পদে রাখা হয়েছে।
এ কমিটিতে ত্যাগী ও পরিশ্রমীদের বঞ্চিত করা, ছাত্রলীগ, নবাগত ও অপরিচিতদের গণহারে পদায়ন, সভাপতি ও সেক্রেটারির অনুগত ও অনুসারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো সহ নানা অভিযোগ তুলেছেন দীর্ঘদিনের পরিচিত নেতাকর্মীরা, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিতর্কের মুখে এসব অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেছেন ছাত্রদলের এমন নেতাকর্মীরা বলছেন, ” কমিটি গঠন সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না। এই কমিটির সদস্য সংখ্যা হিসেবে বড় হলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি।” তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ৫ আগস্টের আগে কঠিন সময়ে এত লোকজন ছিল না।কিন্তু পদ নেওয়ার ক্ষেত্রে এত লোকের আনাগোনা কীভাবে?
ছাত্রলীগ-ডান-বাম মিশ্রিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের ঢাউস কমিটি গঠন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে গত শুক্রবার দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়,” গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি জহির রায়হান আহমেদ ও এ বি এম ইজাজুল কবির রুয়েলকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। তাদের দুই দিনের মধ্যে তদন্ত করে লিখিত আকারে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”
ঢাবি ছাত্রদলের এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বেশকিছু ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।তাদের একজন হলেন মাহাদী ইসলাম নিয়ন। তিনি ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন। এর আগে তিনি শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদের সঙ্গে রাজনীতি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ফেসবুক আইডিতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রাম, নির্বাচনী প্রচারে আল-নাহিয়ান খান জয়ের সঙ্গে কাজ করা সহ বেশ কিছু ছবি দেখা যাচ্ছে। তার ফেসবুক টাইমলাইনে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট ‘জাতীয় শোক দিবস’ পালনে শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের ‘বঙ্গবন্ধু থেকে বিশ্ববন্ধু’ শীর্ষক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ছবিও শেয়ার করেন তিনি।
এই কমিটির বিতর্কবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি কে ঘিরে ‘বিতর্ক’ চলছে ফেসবুকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সনজিত-সাদ্দাম কমিটি থাকাকালে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সংস্কৃতি সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী ছিলেন বলে জানা যায়। ক্রীড়া সম্পাদক সাইফ উল্লাহ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ এবং আরেক কেন্দ্রীয় নেতা সা’দ বিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে ছবি ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সাইফ উল্লাহ এ বিষয়ে জানান, “এলাকার বড় ভাই হিসেবে সাদ বিন কাদেরের হাত ধরে তিনি প্রথম বর্ষে জহু হলে উঠেছিলেন।কিন্তু ছাত্রদলের সমর্থক হওয়ায় তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছেন।”নতুন কমিটিতে জেন্ডার ন্যায্যতা ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন সৈয়দ সুকাইনা নাফিসা তরঙ্গ। তিনি গত ৭ আগস্ট ফেসবুকে খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব বার্বি’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে । যদিও নাফিসা এ ব্যাপারে তার ফেসবুক আইডিতে বলেন, ‘আমার কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট নিয়ে অনেকে খালেদা জিয়ার প্রতি আমার স্ট্যাটাসের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে।’
এ ছাড়া তার ব্যাপারে জারিফ আরফান নামে একজন বলেন, “নাফিসা তরঙ্গের দীর্ঘদিনের বয়ফ্রেন্ড ইলিয়াস হোসেন তুষার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। লেখক ভট্টাচার্য থাকার সময় শেখ মুজিব হল ছাত্রলীগের ক্যান্ডিডেট ছিলেন।”ছাত্রদলের ধর্ম সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সঙ্গে দুই বছর সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে এক সূত্র। সূত্র বলছে, তিনি হলে মোস্ট পলিটিক্যাল ছিলেন এবং থাকতেন ‘পলিটিক্যাল রুমে’। শাকিল গ্রুপে রাজনীতি করলেও হল ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান শান্তর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ঘটনাচক্রে হল ত্যাগ করেন এবং ছাত্রদলে যোগ দেন।
গত বছর ছাত্রদলের কমিটিতে সক্রিয় থাকলেও আন্দোলনে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের উপ-মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন। তিনি ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের একদিন আগে ছাত্রলীগের সাথে আঁতাত করে হল ত্যাগ করেছেন এবং পরে হল ছাত্রদলের পদও পান। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রিমন সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিয়াম রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তিনি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী হিসেবে ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কাজ করেছিলেন বলে জানা গেছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবি এখনো ভাসছে।
ছাত্রদলে ‘নবাগত’ যুগ্ম সম্পাদক পদ পাওয়া মৌসুমী শেখ ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে রোকেয়া হলে বাম সংগঠন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি ভিড়েছেন ছাত্রদলে।এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর হাত ধরে পেয়েছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক পদ। চরমোনাই পীরকে হিসেবে পরিচিত ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ছাত্র সংগঠনের হয়ে ডাকসু নির্বাচন করা মাহমুদুল হাসান কমিটিতে পেয়েছেন ‘শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক’।গতবছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেও ৭ জানুয়ারির পরে অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন।
ছাত্রদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা আবু সাঈদ পেয়েছেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ। তিনি বিজয় একাত্তর হলে থাকাকালে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন। হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনূসের অনুসারী ছিলেন। ছাত্রদলের বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া নিজের গ্রুপ ভারী করার জন্য সাঈদ কে হলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দিলেও আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে দেখা মেলে নি।
এদিকে, ছাত্রদলের এ কমিটিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদেরকে পদবঞ্চিত এবং অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাবি শাখার সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার পরও আহ্বায়ক কমিটিতে আমার জুনিয়ররা আহ্বায়ক সদস্য হলেও আমি ছিলাম পদবঞ্চিত। ঢাবি ছাত্রদলের সোহেল – আরিফ কমিটিতে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। অবশেষে আবারও অবমূল্যায়িত হলাম বর্তমান কমিটিতে। আমার বন্ধুদের, এমনকি আমার সহযোদ্ধা, অনুজদেরও যেখানে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হলো, সেখানে আমাকে কোন বিবেচনায় সহ-সাধারণ সম্পাদক করা হলো, তা বোধগম্য নয়। ভবিষ্যতে ছাত্রদলের কোনো কর্মী যেন আমার মতো অবমূল্যায়নের শিকার না হন।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের আরামের সিট ছেড়ে ছাত্রদলের চরম দুর্দিনে রাজপথে ‘একটিভ’ ছিলেন এস. এম. সাইফ।তাকে রাখা হয়েছে সহ সাংগঠনিক পদে।
হতাশা ব্যক্ত করে তিনি ফেসবুক আইডি তে বলেন, “ধন্যবাদ সকলকে।আমি না হয় দলের বোঝা হয়েই থাকলাম..
দলের দুর্দিনে প্রয়োজন হলে ডাক দিয়েন। ১৫/২০ জনের ঝটিকা মিছিল করার জন্য সবসময় পাবেন…
ভালোবাসি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান,”৫ আগস্টের আগে কঠিন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলে এত লোকজন আমরা দেখিনি। এতদিন পর এসে সুসময়ে হঠাৎ করে এত লোক বেড়ে গেছে।এতে বিস্মিত হচ্ছি। কোনোরকম বাছ-বিচার, মূল্যায়ন ছাড়াই এত সদস্যকে পদায়ন করার বিষয়টি সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর। এতে করে বিগত সময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীরা রাজনীতিবিমুখ হয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন এবং নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অনেক নেতাকর্মী আমাদের কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমরা এই কমিটির সমালোচনায় বিভিন্ন লেখালেখি দেখতে পাচ্ছি।”
তারা আরও বলেন, “ঢাবি ছাত্রদলের কমিটি এই মুহূর্তে এত বড় করার দরকার ছিল না। এ ক্ষেত্রে ত্যাগীদের কমিটিতে রেখে এটা একটু ছোট করে নতুনদের আরও কিছুদিন সময় দিলে ভালো হতো। তারা কিছুদিন রাজনীতি করার পর অভিজ্ঞ হলে সে অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে আনা হলে সেটা ভালো হতো। এই কমিটিতে নতুনদের বেশি ঢোকানো হয়েছে। যার কারণে ছাত্রলীগ, বাম, ছাত্রশিবির সহ অন্য ছাত্র সংগঠনের লোকদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছি। আর আগে তো আমরা মেয়েদের হলে কমিটিই দিতে পারিনি লোকবলের অভাবে, আর এখন দুই মাসের ব্যবধানে মেয়েদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে।”
পদবঞ্চিত একাধিক নেতা জানান , “এই কমিটিতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেশকিছু ত্যাগী কর্মী বঞ্চিত হয়েছেন। বেশকিছু সম্ভাবনাময়ী, পরীক্ষিত ও রাজপথে সক্রিয় ছেলেকে নামমাত্র পদ দেওয়া হয়েছে।এটা নিয়ে তাদের মধ্যে মনঃক্ষুণ্নতা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রুপিংয়ের কারণে সভাপতি সেক্রেটারি গ্রুপ ছাড়া অন্য গ্রুপগুলো থেকে অনেকেই বাদ পড়েছে।
বর্তমান কমিটির এক সহসভাপতি বলেন,’ কেন্দ্রীয় ও ঢাবি সভাপতি সেক্রেটারির সঙ্গে যারা রাজনীতি করছে, তাদের সব জায়গায় এগিয়ে রাখা হয়েছে। এর বাইরে গ্রুপভিত্তিক রাজনীতির প্রেক্ষিতে যে ছেলেগুলো দিনের পর দিন দলের জন্য পরিশ্রম করেছে, তাদের কোনোরকমে একটা পদ দিয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এবার আমার দেখা পরিশ্রমী এক ডজন ছেলেকে একবারেই বঞ্চিত করা হয়েছে। এমন অনেককেই এনে পদ দেওয়া হয়েছে, যাদের আমরা চিনিই না। এক কথায়, এই কমিটিতে কর্মের মূল্যায়ন যথেষ্ট পরিমাণে হয়নি।”
আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের অবমূল্যায়ন এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পদায়ন প্রসঙ্গে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে যত অভিযোগ এসেছে, সেগুলো আমরা আমলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।কমিটি আজকে রিপোর্ট দেবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আমরা আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপে যাব।”
কিউএনবি/আয়শা/১৮ নভেম্বর ২০২৪,/রাত ৮:০০