আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল বার্তাটি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোই ছিল এর লক্ষ্য। এর আগে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২০ সালে ইরানের মেজর জেনারেল কাশেম সুলেইমানিকে হত্যার ঘটনায় তেহরান প্রতিশোধ নিতে পারে এমন আশংকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এই হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে কাশেম সুলাইমানিকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়লাভের পর থেকে ইরানের কর্মকর্তা, বিশ্লেষক এবং মিডিয়া আউটলেটগুলো ট্রাম্পের বিষয়ে সমঝোতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের তরফ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার চাপ রয়েছে ট্রাম্পের ওপর।
এ অবস্থায় মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছিলেন, সুলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ট্রাম্পের ওপর হামলা চালাতে পারে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইরানের ষড়যন্ত্র সম্পর্কিত দুটি অভিযোগের বরাত দিয়ে এমনটা জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য ব্যক্তিদের তরফ থেকেও এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানি বার্তাটিতে তেহরানের অবস্থান থেকে জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনাটিকে একটি অপরাধমূলক কাজ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও তারা স্পষ্ট করেছেন যে, ,ট্রাম্পকে তাদের হত্যা করার কোন পরিকল্পনা নেই। এই বার্তাটি একজন ইরানি কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষক নিশ্চিত করেছেন যিনি উভয় পক্ষে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন সংঘাতের পরিবর্তে সুলাইমানি হত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আইনি চ্যানেলের মাধ্যমে করার বিষয়েই ইচ্ছে প্রকাশ করেছে তেহরান।
মার্কিন কর্মকর্তারা যখন উল্লেখ করেছেন যে, বার্তাটি কোনো নির্দিষ্ট ইরানি কর্মকর্তার কাছ থেকে আসেনি, তখন ইরানি কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি আসলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছ থেকে এসেছে। ইরান এ বিষয়ে আর কোন তথ্য দেয়নি। তবে তাদের একটি বিবৃতি জারির মধ্যথেকে জানা গেছে, তারা সুলাইমানি হত্যাকাণ্ডের বিচার ‘আইনি ও বিচারিক উপায়ে’ করার পক্ষপাতি।
এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ইরানি চক্রান্তের বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন। সম্প্রতি ম্যানহাটনের ফেডারেল প্রসিকিউটররা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানি চক্রান্তকারীদের মধ্যে আলোচনায় ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে সোমবার ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্ক জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। মাস্কের অনুরোধে তার সঙ্গে দেখা করেন রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বৈঠকটি হয়।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। যে সময় তেহরানের মার্কিন দূতাবাসে ৫২ জন আমেরিকানকে জিম্মি করা হয়েছিল। তেহরানে সুইস দূতাবাস দুটি দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বন্দি বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ নভেম্বর ২০২৪,/রাত ৮:১৫