তবে তিন বছরের মাথায় আবারও রাজনীতিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই রাজনীতিক। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ৭৯ বছর বয়সী দুতের্তে সোমবার (৭ অক্টোবর) দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের দাভাওয়ে নির্বাচন কমিশনে কাগজপত্র জমা দেন। নির্বাচনে তার রানিংমেট হিসেবে থাকবেন ছেলে সেবাস্তিয়ান দুতের্তে। তিনি বর্তমানে দাভাওয়ের মেয়র।
দাভাও দুতের্তে পরিবারের রাজনৈতিক ঘাঁটি। এখান থেকেই ক্রমে ক্ষমতার মসনদে আরোহন করেন রদ্রিগো দুতের্তে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী যুদ্ধের নামে হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তার বিষয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক তদন্ত চলছে।
মূলত উত্তরসূরী প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র পরিবারের সাথে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে দুতের্তে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হন মার্কোস জুনিয়র। ভাইস প্রেসিডেন্ট হন দুতের্তের মেয়ে সারা দুতের্তে।
সারা দুতের্তে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে। আর বাবা হিসেবে তার হাত শক্তিশালী করতেই রদ্রিগো দুতের্তে মেয়র পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রার্থীতার নথি জমা দেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আপনাদের গতদিনের চেয়ে আরও ভালো করে সেবা করতে চাই।’ দাভাও শহরকে ‘আরও উন্নত’ করার পরিকল্পনা করেছেন বলেও জানান তিনি।
ফিলিপিন্সের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মেয়াদ ৬ বছর। আর একজন রাজনীতিক একবারই প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। ফলে মার্কোস জুনিয়রও আর প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে তার চাচাতো ভাই মার্টিন রোমুয়ালডেজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রোমুয়ালডেজ বর্তমানে পার্লামেন্ট হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৫ সালে ফিলিপিন্সে মেয়র নির্বাচনের পাশাপাশি মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন দুতের্তে ও মার্কোস উভয় পরিবারের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই পরিবারই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে নিজ নিজ শক্তি বাড়াতে চাইছে।
তবে জনসমর্থনের দিক দিয়ে বেশ বেকায়দায় রয়েছে দুতের্তে পরিবার। কারণ মাদকবিরোধী যুদ্ধের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দুতের্তের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি)। এছাড়া একই ইস্যুতে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে শুনানি চলছে।
ফিলিপিন্সের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুতার্তে-র ছয় বছরের শাসনামলে মাদকবিরোধী পুলিশি অভিযানে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। তবে এই সংখ্যা ১২ হাজার থেকে ৩০ হাজারের মধ্যে হবে বলে অনুমান করেছেন আইসিসির প্রসিকিউটররা। দুতের্তে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।