আলমগীর মানিক,রাঙ্গামাটি : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অসহায় ও গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে রাঙামাটি রিজিয়নের জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকায় শতাধিক অসহায় পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ, পুরোনো ঘর সংস্কার এবং ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

সদর দপ্তর ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে এবং জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর উদ্যোগে এই মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এর আওতায় ২০টি অসহায় পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ঘর নির্মাণ এবং আরও ৫টি পরিবারের জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার করা হয়। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে ফ্যান, লাইট, চৌকি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ৯১টি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
রোববার (১৬ মার্চ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএ-৫৮৭১ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, কমান্ডার, ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড-এর উপস্থিতিতে নবনির্মিত ও সংস্কারকৃত ঘরসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় জুরাছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান, এসপিপি, পিএসসি, এলাকার হেডম্যান, কারবারি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঘর হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, “এলাকার অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন মানুষের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি মানবিক ও মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পবিত্র মাহে রমজানের মানবিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সৈনিকরা অত্যন্ত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এসব ঘর হস্তান্তরের মাধ্যমে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘব হবে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।”
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জুরাছড়ি উপজেলা অত্যন্ত দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে অঞ্চলটি তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও এ অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে জুরাছড়ি জোন ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নতুন ঘর পেয়ে উপকারভোগী অসহায় ও প্রতিবন্ধী পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি, আনন্দ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা এই মানবিক সহায়তার জন্য ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার এবং জুরাছড়ি জোন কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ মার্চ ২০২৬,/রাত ১২:৫০