বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন

দুই সপ্তাহেই ট্রাম্প ওড়ালেন ১১ বিলিয়ন ডলার

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৭১ Time View

ডেস্কনিউজঃ ইরানের সাথে চলমান সংঘাতকে হোয়াইট হাউস সরাসরি ‘যুদ্ধ’ বলতে নারাজ হলেও মুদ্রার উল্টো পিঠ বলছে অন্য কথা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র খরচ মাত্র দুই সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই ১২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছুঁয়েছে।

পেন্টাগনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম ছয় দিনেই এই যুদ্ধের পেছনে মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে খরচ হয়েছে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব ধরলে এই অংক আরও কয়েকগুণ বেশি।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী এই অভিযান সীমিত মনে হলেও মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব ভয়াবহ। ইরান এবং লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি স্থল অভিযান ও মার্কিন বিমান হামলায় এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু।

তেহরানের আকাশে যখন মিসাইলের গর্জন, তখন ওয়াশিংটনের সাধারণ নাগরিকরা চিন্তিত তাদের ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকট নিয়ে। অথচ হাউস স্পিকার মাইক জনসন এখনো দাবি করছেন যে আমেরিকা কোনো যুদ্ধে নেই।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে খোদ আমেরিকার ভেতর জনকল্যাণমূলক কাজের এক বিশাল বিপ্লব ঘটানো সম্ভব ছিল। ফিলাডেলফিয়ার মতো শহরের স্কুল ডিস্ট্রিক্ট যেখানে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতির কারণে বাজেট কমাতে বাধ্য হচ্ছে, সেখানে যুদ্ধের মাত্র অর্ধেক দিনের খরচ দিয়ে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল। আমেরিকার কয়েক মিলিয়ন পাবলিক স্কুল শিক্ষককে বছরের পর বছর শিক্ষা উপকরণ কেনার টাকা দেওয়া যেত এই যুদ্ধের বাজেট থেকে। এমনকি কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থীর ঋণের বোঝা পুরোপুরি নামিয়ে দেওয়া কিংবা দেশের বিশাল সংখ্যক গৃহহীন মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করাও এই কয়েক দিনের যুদ্ধ খরচের চেয়ে সস্তা ছিল।

কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের অগ্রাধিকার যেন ভিন্ন দিকে। সাধারণ মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা জ্বালানি সহায়তার বদলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালা হচ্ছে টমাহক ক্রুজ মিসাইলের পেছনে। প্রতিটি মিসাইলের পেছনে খরচ হচ্ছে প্রায় আড়াই মিলিয়ন ডলার। একদিকে যখন দ্রব্যমূল্য আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, তখন অস্ত্র ব্যবসায়ীদের পকেট ভারি করতে সাধারণ মার্কিনিদের জীবনযাত্রার মান বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, বাজেটের এই ধারা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মার্কিন সরকারের কাছে নিজ দেশের নাগরিকদের চেয়ে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের মূল্য অনেক বেশি।

সূত্র: গার্ডিয়ান

বিপুল/১৭.০৩.২০২৬/রাত ৮.৪৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit