বিনোদন ডেস্ক : ১৯৫৫ সালের ৪ অক্টোবর আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন সাদি মহম্মদ। বাবা শহীদ সলিমউল্লাহ ও মা জেবুন্নেসা সলিমউল্লাহর ঘরে আলো করে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পরিবারের সন্তান সাদির ভাই নৃত্যাঙ্গনের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব শিবলী মহম্মদ। ব্যক্তিজীবনে ভাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো।
ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আলাদা টান ছিল সাদির। কিন্তু বাবা-মায়ের ইচ্ছায় ১৯৭৩ সালে বুয়েটে ভর্তি হন। কিছুদিন কাটার পর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মন বসাতে পারেননি তিনি। তাই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালীনই ১৯৭৫ সালে স্কলারশিপ নিয়ে শান্তিনিকেতনে সংগীত নিয়ে পড়তে যান।
বিশ্বভারতী থেকে রবীন্দ্রসংগীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। সেই থেকে সংগীত জীবনে তার পথচলা শুরু। ক্যারিয়ারে গেয়েছেন অসংখ্য রবীন্দ্রসংগীত। তার কণ্ঠে কবিগুরুর গান ছিল আলাদা মাধুর্যপূর্ণ।
২০০৭ সালে ‘আমাকে খুঁজে পাবে ভোরের শিশিরে’ অ্যালবামের মধ্যদিয়ে তিনি সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০৯ সালে ‘শ্রাবণ আকাশে’ও ২০১২ সালে ‘সার্থক জনম আমার’ নামে তার দুটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। ব্যক্তিজীবনে বর্ষা ও বসন্তের গান পছন্দ করতেন সাদি মহম্মদ। সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা দেখতে পছন্দ করতেন। উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন ছিল তার পছন্দের অভিনয়শিল্পী।
বাংলা সিনেমা ছাড়াও হলিউডের ‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’, আমেরিকান রোমান্টিক কমেডি ফিল্ম ‘রোমান হলিডে’ ছিল তার বেশ পছন্দের। অবসর সময়ে বই পড়তে ভালোবাসতেন। প্রিয় লেখকদের মধ্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় খুঁজে পেতেন অন্যরকম অনুভূতি।
শিল্পীজীবনে সংগীতের সঙ্গেই ঘর বেঁধেছিলেন। তাই বিয়ে, সংসার আর করা হয়নি সাদির। একাকিত্ব জীবনে বাবা, মা না থাকার বেদনা ঘিরে ধরেছিল তাকে। বেশ অভিমানীও ছিলেন তিনি। একাকিত্বের জীবনে অসংখ্যবারই তার মনে হতো, কেউ ভালোবাসেন না তাকে।
চলতি বছর ১৩ মার্চ হঠাৎই কোনো এক অভিমানে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সাদি মহম্মদ। আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিমানী এ সংগীতশিল্পী।
কিউএনবি/আয়শা/০৪ অক্টোবর ২০২৪,/বিকাল ৩:৫০