আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি আর নেই। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ফুজিমোরি বুধবার রাতে অচেতন হয়ে পড়েন এবং বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
বিবিসি জানিয়েছে, ফুজিমোরির মেয়ে কেইকো ফুজিমোরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি লেখেন, ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
ফুজিমোরির চিকিৎসক হোসে কার্লোস গুতিয়েরেজ বলেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে ফুজিমোরির জিহ্বার ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসায় সাড়া মিললেও দুদিন আগে তার (ফুজিমোরি) শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
বিবিসির খবর অনুযায়ী, পেরুর সাবেক এ নেতা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেল খাটেন। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে পেরুর শাসক ছিলেন ফুজিমোরি। শেষপর্যন্ত দুর্নীতির কারণে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।
বামপন্থি গেরিলা বিদ্রোহ দমনে ফুজিমোরির কঠোর অবস্থানের কারণে তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয় এবং বিচারে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে এনে কারাগারে পাঠানো হয়।
পেরুর সাবেক এ প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে গণহত্যায় জড়িত থাকার মত বেশ কয়েকটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন।
১৫ বছরেরও বেশি সময় বন্দি থাকার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ফুজিমোরিকে সাধারণ ক্ষমা করেন এবং গত বছরের ডিসেম্বরে রাজধানী লিমার বারবাডিলো কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
ফুজিমোরির শাসনামলে দমন-পীড়নের শিকার হাজার হাজার নিরীহ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন স্রেফ স্বৈরাচার ও নিষ্ঠুর নেতা।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলেও ফুজিমোরির ভক্ত-সমর্থকরা তা মনে করেন না। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সমর্থকরা তাকে একনজর দেখার জন্য আকুতি জানাতে থাকেন।
ফুজিমোরি মূলত একজন জাপানি অভিবাসীর সন্তান। তার মেয়ে কেইকো ফুজিমোরি বর্তমানে পেরুর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের নেতা।
কিউএনবি/অনিমা/১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/রাত ১০:৩৬