খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুর পৌরসভার কাগদী ও আটং এলাকায় বোরো চাষের জমিতে পুকুর করার উৎসব চলছে। বেশীরভাগ জমি কৃষকদের বিনা অনুমতিতে নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা। এমনি ভাবে ফসলি জমি পুকুরে পরিনত হলে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করেছে। এলাকাবাসীর চাপে পুকুর খননের কাজ সম্পন্ন করতে পারছে না বলে দাবী করেছে দখলকারীরা।
ভূক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসীরা জানায়, স্থানীয় সুমন মৃধা, শাহ আলম, লাল শরীফ সহ একটি প্রভাবশালী মহল পৌরসভার দক্ষিন আটং ও কাগদি এলাকায় প্রায় ৫০ বিঘা জমির উপর দুটি পুকুর খনন কাজ শুরু করেছে। যে সকল ফসলি জমিতে পুকুর খনন শুরু করেছে সেই জমির মালিকদের কোন সম্মতি নেওয়া হয়নি। ফসলি জমি দখলের ক্ষেত্রে এক ধরণের বল প্রয়োগ করা হয়েছে। অনেক জমির মালিকরা পুকুর খননকারীদের প্রভাবের কাছে নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। তবে স্থানীয় কতিপয় অকুতভয় জমির মালিকরা বেঁকে বসায় সাময়িক ভাবে পুকুর খননের কাজ বন্ধ রেখেছেন দখলদাররা।

৭৪ শতাংশ জমির মালিক রাসেল সরদার জানায়, তার জমিতে বর্গা চাষী ফসল ফলায়। সেখান থেকে পাওয়া ফসলে তার বছর চলে যায়। সেই ফসলি জমিতে জোর করে পুকুর খননের কাজ শুরু করে সুমন মৃধারা। প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার জমির উপর ভ্যাকু (স্কেভেটর) চালিয়ে জমির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বর্গাচাষী এখন জমি গ্রহণ করতে চায় না।
একই ঘটনা ঘটেছে পার্শবর্তী জমির মালিক ইউনুছ মাদবর, রহম আলী শেখ ও মোসলেম মাদবরদের সাথে। তারা জানায়, জমিতে ফসল ফলিয়ে তারা ভালোভাবে জীবিকা উপার্জন করছে। তারা ফসল পেলেই খুশি থাকেন। মাছের প্রতি তাদের কোন আগ্রহ নেই। তাছাড়া ফসলি জমিতে পুকুর খনন করলে শ্রেণি পরিবর্তণসহ জমির ক্ষতি হয়। অর্থের প্রয়োজনে জমি বিক্রিও করা যায় না। তাই তারা পুকুর তৈরীতে আগ্রহী না।পুকুর খননকারী সুমন মৃধা জানায়, স্থানীয়দের চাপের মুখে তারা পুকুর খনন সাময়িক বন্ধ রেখেছেন। এখন তারা সেখানে পুকুর খনন করতে পারবে না।
কিউএনবি/অনিমা/৩ জুলাই ২০২৪/দুপুর ২:৪৩