মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন

দুর্নীতি বন্ধে ব্যবস্থা নিলে শেখ হাসিনা মাহাথিরকে ছাড়িয়ে যাবেন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪
  • ৮০ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : ব্যাংক লুট, বিদেশে অর্থপাচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, যদি এই অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় তবে শেখ হাসিনা মালেশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদকেও ছাড়িয়ে যাবেন। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্ন উত্থাপন করে সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, দুর্নীতি না করলে ওই বেনজির, ছাগল কাণ্ডের অফিসাররা কেন আইনকে ভয় পান। দেশ থেকে কেন পালিয়ে যান? তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও কাস্টমস কর্মকর্তা মতিউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে কামরুল ইসলাম বলেছেন, যদিও জাতীয় ও আন্তজার্তিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই সমস্ত দুর্নীতির কথা হঠাৎ করে উঠে আসছে। তারপরও এ কথা স্বীকার করতেই হবে, যাদের বিরুদ্ধে আজকে অভিযোগ, তারা কেন আইনকে ভয় পায়? আইনকে ভয় পেয়ে বিদেশে কেন চলে যায়? আজ বেনজীর সাহেব, ছাগলকাণ্ডের কর্মকর্তারা কেন আইনকে ভয় পায়? আইনকে ভয় পায় বলে মনে হচ্ছে তারা দুর্নীতিগ্রস্ত। তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেগুলো সত্য। এটা ষড়যন্ত্রের অংশ। কিন্তু তারপরও তাদের ভূমিকায় এগুলো সত্য বলে প্রতীয়মান হয়।

সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী টানা চতুর্থবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। আমি বিশ্বাস করি তিনি মালেশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদকেও ছাড়িয়ে যাবেন। যদি দুর্নীতি, ট্যাক্স লুটেরা ও অপকর্ম যারা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। বিশ্বাস করি আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবার সরকার গঠন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, এখনই সময় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার। আমরা রাজনীতি যারা করি, আমাদের লজ্জা হয়, এই সমস্ত লোকদের ব্যাংক লুটেরা বা যারা এসব কাজ করছে তাদের দেখে। এমপি কামরুল ইসলাম বলেন, আবারও বলতে চাই, বিশ্বের অন্যতম সৎ রাষ্ট্র নায়ক আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আমাদের দেশে ব্যাংক লুটেরা, অর্থ পাচারকারীরা এবং এই সমস্ত দুর্নীতিবাজরা আমাদের গায়ে চুনকালী মাখাতে পারে না। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যেমনি ভাবে ক্যাসিনো কাণ্ডের বিচার হয়েছিল, তেমনি ভাবে তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আজকে যখন আমাদরে প্রধানমন্ত্রী অন্যতম একজন সৎ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশ্বের সৎ ব্যক্তিদের তালিকায় ১০ জনের মধ্যে তার নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। সেখানে দুর্নীতি যারা করে তাদেরকে কোন ভাবে টলারেন্স করতে পারেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে, অতীতে বিএনপি কোন সময় তার দুর্নীতিবাজ নেতাকর্মীদের শায়েস্তা করতে পারেনি, আইনের আওতায় আনতে পারেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রমাণ করে দিয়েছে, বিভিন্ন সময় আমাদের মন্ত্রী, এমপিদের পর্যন্ত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। আপনাদের নিশ্চয়ই স্মরণ আছে, কিছু দিন আগে ক্যাসিনো কাণ্ডে আমাদরে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন, বিচারের আওতায় তাদেরকে আনা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের যে নীতি এটা স্বীকার করতেই হবে, ‘দুর্নীতির বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স’ নীতি। আামাদের নেতাকর্মীদের কোন ভাবেই আমরা দুর্নীতিতে ছাড় দিচ্ছি না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্নীতি বিরোধী অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়ে সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অনেক আইন আছে। কিন্তু আইনের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন নেই। দুর্নীতিকে বরদাস্ত করলে চলবে না। জনগণ দুর্নীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে আসছেন লৌহ মানবির মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কাজ করছেন। কিন্তু কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছেন। তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সেই ঘোষণা এখনো আমার কানে বাজে, আমার কৃষক দুর্নীতি করে না, আমার মজদুর করে না। দুর্নীতি করে শিক্ষিত সমাজ। বঙ্গবন্ধু কন্যার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক উল্লখে করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেন, যারা বাজেট বাস্তবায়ন করবেন, তাদেরকে দুর্নীতিমুক্ত রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। এনবিআর, দুদক-এধরণের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আস্থাশীল ও স্বচ্ছ না করতে পারলে অগ্রসর হওয়া যাবে না। সরিষার মধ্যে যদি ভুত এসে যায়, তাহলে ভুত তাড়াবেন কি করে? তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কলো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। নিশ্চয়ই এর পিছনে কোন যৌক্তিক কারণ আছে। তবে এর মাধ্যমে যেন দুর্নীতি উৎসাহিত না হয়, সে বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সসদস্য আখতারুজ্জামান বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে। অর্থমন্ত্রী এ জন্য পরিকল্পনা নিয়েছেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী যে মডেল নিয়েছেন একই মডেল যুক্তরাষ্ট্র অনুসরণ করে পাঁচ বছরেও সফল হয়নি। তিনি অর্থমন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আবার সবার আহ্বান জানান।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৮ জুন ২০২৪,/দুপুর ১২:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit