মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে ‘রেমাল’ আঘাত হানবে রোববার সন্ধ্যায়

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪
  • ৮৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেই তখন তাকে ‘রেমাল’ আখ্যায়িত করা হবে। রেমাল একটি আরবি শব্দ। যার অর্থ ‘বালি’। ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হলে রেমালের প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে শুরু করবে রোববার বিকাল ৩টা থেকে। 

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সেক্ষেত্রে রোববার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির ৭০ শতাংশ বাংলাদেশ এবং ৩০ শতাংশ ভারতে আঘাত হানতে পারে।

শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি শনিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হলো।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক যুগান্তরকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ এখন গভীর নিম্নচাপ আকারে আছে। আস্তে আস্তে সেটি শক্তি অর্জন করছে এবং শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টার মধ্যে যেকোনো সময় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

তিনি বলেন, যদি গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয় তাহলে রোববার বিকাল ৩টা থেকেই এর প্রভাব শুরু হতে পারে। পরবর্তী সময়ে সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টার মধ্যে যেকোনো সময়ে এটি উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, রেমাল একটি ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হতে পারে। সেক্ষেত্রে এই ঘূর্ণিঝড়টি সর্বপ্রথম যেখানে আঘাত হানবে, সেখানের বাতাসের গতিবেশ ঘণ্টায় ১২০-১৩০ কিলোমিটার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রেমালের গতিবেগ নিয়ে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, সিডরের মতো এত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় না এটি, ঘূর্ণিঝড় রেমাল সিডরের থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমানে যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা আছে। তবে বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশালের পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলায় রেমাল-এর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি বলে জানান আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুম শুরুর ঠিক আগে আর্দ্রতা অনেক বেশি থাকে। ফলে এই সময় কোনো ঘূর্ণিঝড় দেখা দিলে তার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক বেশি হয় এবং বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। কিন্তু এবার সেই সম্ভাবনা আরও বেশি। কারণ, পূর্ণিমার সময় জোয়ার বেশি থাকে। এটি যদি জোয়ারের সময়ে আঘাত হানে, তাহলে জলোচ্ছ্বাস বেশি হবে। আর যেহেতু এটি ‘সিভিয়ার সাইক্লোন’ আকারে আঘাত করার সম্ভাবনা আছে, তাই বৃষ্টির পরিমাণও বেশি থাকবে।

আবহাওয়া অফিস ইতোমধ্যে তাদের পূর্বাভাসে বলেছে, শনিবার সকাল থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে রোববার সকালে দেশের সব বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে ভারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, রেমাল অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় না, প্রবল ঘূর্ণিঝড়। আর প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সময় সাধারণত তিন থেকে সাত ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়ে থাকে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরেই ভ্যাপসা গরম পড়েছে। আর এই ভ্যাপসা গরম অনুভূত হওয়ার সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের সম্পর্ক আছে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, যখন বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন স্থলভাগের সব মেঘ ঘূর্ণিঝড়ের আশেপাশে চলে যায়। কোনো স্থান মেঘমালা শূন্য হয়ে গেলে ভ্যাপসা গরম লাগে। এক্ষেত্রে যেদিকে ভ্যাপসা গরম লাগে, ঘূর্ণিঝড়টির সেদিকে যাওয়ারই সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে ভ্যাপসা গরম থাকে, সেখানে ধরে নিতে হবে যে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আর জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে গেলে সেখানে বায়ুরচাপ কমে যায়। আর বায়ুরচাপ কমে গেলে যেদিকে বাতাসের চাপ কমে যাবে, ঘূর্ণিঝড়টি সেদিকে যায়। ভ্যাপসা গরম আসলে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ব লক্ষণ।

কিউএনবি/অনিমা/২৫ মে ২০২৪,/বিকাল ৫:৩৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit