শহিদ আহমেদ খান সাবের,সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট বিভাগে আরো মন্ত্রী নিয়োগের জন্য সরকারের প্রতি আহব্বান জানানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান নাগরিক দায়িত্ব নামের একটি সামাজিক সংগঠনের, সভাপতি এডভোকেট মো. এম আর খালেদ (তুষার)। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বৃহত্তর সিলেটকে উপহার দেয়া হয়েছিল সর্বমোট ৫জন মন্ত্রী। এর মধ্যে ৩জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২জন প্রতি মন্ত্রী। কিন্তু ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করে সিলেট বিভাগকে অবমূল্যায়ন করে মাত্র ২জন পূর্ণ মন্ত্রী ১জন প্রতি মন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে যা সিলেট বিভাগবাসীর জন্য অত্যন্ত দুখের।
তিনি বলেন- বর্তমান সরকারের মন্ত্রী পরিষদে প্রধানমন্ত্রী সহ মোট ৩৭ জন আছেন। আমাদের বৃহত্তর সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার মধ্য হতে সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. সামন্ত লাল সেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহিদ এবং মন্ত্রণালয় ঠিক রেখে শুধুমাত্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতি সিলেট-২ এর সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী। গত আমলের চেয়ে এবার বঞ্চিত করা হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলাকে ও হবিগঞ্জ জেলাকে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ যেখানে অর্থ কষ্টে ব্যবসা বাণিজ্য চাকরি করে নিজ সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে সেখানে ৩০ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপিরা ও তাদের স্ত্রী ও সঙ্গে থাকা চাটুকার ও এপিএস নামধারীরা বছরে শত কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছেন। টিআইবির রিপোর্ট অনুযায়ী এই দেশে প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সংসার চালান ধার-কর্জ করে। এইবার ২৮টি রাজনৈতিক দলের অংশগহণে ২২৩টি আসনে নৌকার বিজয় হয়েছে, স্বতন্ত্র হতে ৬২ জন জাতীয় পার্টিতে ১১ জন। লক্ষণীয় যে, এইবার নির্বাচনে ব্যবসায়ীরা ইনভেষ্ট করেছেন শত শত কোটি টাকা। উচ্চ শিক্ষিত যোগ্য ব্যক্তিদের তুলনায় নৌকার ৯৩ শতাংশ প্রার্থীই কোটি কোটি টাকার মালিক।
এডভোকেট তুষার বলেন- হলফনামায় ঘোষণা মোতাবেক ২০২৩ সালে এসে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪.৫০ কোটি টাকার ওপরে। সিলেট-৪ আসনের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদের নিজের নামে অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ৪.৫ কোটি টাকার ওপরে আর উনার স্ত্রীর নামে বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার ওপরে।
এছাড়াও উনার স্ত্রীর নামে আরোও ৪-৫ কোটি টাকা আছে। তিনি বলেন, মন্ত্রী এম এ মান্নান সুনামগঞ্জে বিমান বন্দর করবেন বলে মানুষকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়েছেন, বোকা বানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী পরিষদে নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রীদের প্রতি আমাদের সিলেট বিভাগবাসীর পক্ষ হতে অনুরোধ কোনো প্রকার দুর্নীতে জড়াবেন না, সাধারণ জনগণকে ভয়ভীতিতে রাখবেন না। নিজ নিজ এলাকার মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে উন্নয়নের কাজ করুন, উন্নয়নের নজির তৈরী করুন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের কাছে দাবি করেন সিলেট বিভাগে উপযুক্ত মূল্যায়ন করে যোগ্য সাংসদ কিংবা ট্যাকনোক্রাট এর মাধ্যমে হোক অনতিবিলম্বে মন্ত্রী নিয়োগ করে মর্যাদা ফিরিয়ে দিন। অন্য কারো দুর্নীতি কিংবা আক্রোশের কারণে আমাদের ন্যায্য দাবীকে মাটি চাপা দিবেন না। মন্ত্রীত্ব পরিমাণ না বাড়ালে এই সিলেট বিভাগে উন্নয়ন তুলনামূলকভাবে অনেক কম হবে।
প্রবাসী সিলেটিরা বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন, এই সিলেটবাসী বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্য রপ্তানী করেও কোটি কোটি টাকা দেশে নিয়ে আসছেন। সুতরাং আমরা অধিক পরিমাণে মন্ত্রীত্ব পাওয়ার যৌক্তিক দাবিদার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এ কে আজাদ খান, তৌফিক চৌধুরী, এডভোকেট বিক্রম কুমার চন্দ, জামান চৌধুরী, পাপলু দত্ত, মো. আলাউদ্দিন, জুনু মিয়া, ইমরুল হাসান, এস এম আকমল আলী প্রমুখ।
কিউএনবি/আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৪,/রাত ৮:৪৪