বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে অস্থায়ী চুক্তির পথে ইরান-ওমান পুরো প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চলছে: মমতা গ্রাম-শহরে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ করা হবে কিনা, যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন বসছে ৯ নভেম্বর ককরোচ পার্টির দুই নেতাকে ৫ দিনের জেল, মোদিকে আবারও ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিপকের ছাত্রলীগের পদের জন্য প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটত সারজিস: রাশেদ ইসরাইলে শিক্ষাসফরে বিস্ফোরণ, হতাহত ২৫ কোমল পানীয়ের ওপর ‘চিনি কর’ আরোপ করছে জার্মানি

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১১৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরের বেশ কিছু এলাকায় গ্যাস সংকট চরম আকার ধারন করেছে। কয়েক মাস ধরে লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের চাপ সম্প্রতি আরও কমে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্পোৎপাদন।

কারখানাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে- শামীম স্পিনিং মিলস, সামছুউদ্দিন স্পিনিং মিলস, মালেক স্পিনিং মিলস, মৌচাক এলাকার হানিফ স্পিনিং মিলসসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সুতা তৈরির কারখানা।

কারখানার মালিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারখানার বয়লার চালানোর জন্য প্রতি ঘনফুটে ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ থাকার কথা থাকলেও অনেক কারখানায় সেই গ্যাসের চাপ কমে প্রতি ঘনফুটে ২ থেকে ৩ পিএসআইতে বিরাজ করছে। তবে শুক্র ও শনিবার জেলার অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেদিন গ্যাসের চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। তারপরও গত শনিবার কয়েকটি এলাকায় প্রতি ঘনফুটে ৬ থেকে ৭ পিএসআই পর্যন্ত পাওয়া গেছে। 

এই অবস্থায় সময় মতো কাঙিক্ষত উৎপাদন করতে না পারায় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন শিল্প কারখানার মালিকরা। এছাড়া পোশাক ক্রেতাদের চাহিদামতো সময়ে উৎপাদন সরবরাহ করতে না পারলে অনেক সময় অর্ডার বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যার কারণে শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরের কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি করেছেন শিল্প কারখানার মালিকরা। 

অপরদিকে কালিয়াকৈর বাজার ও আশপাশের এলাকার শত শত বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। আবার এসব এলাকায় চোরাই পথে অবৈধ সংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কখনো কখনো রান্নার চুল্লিতে একেবারেই থাকে না গ্যাসের সরবরাহ। এতে করে আবাসিক এলাকার লোকজন রান্না-বান্নায়ও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। 

কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়া জোড়া নামক এলাকার এসএ স্পিনিং মিলসে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে সুতা তৈরির মেশিন চালাতে পারছেন না। ফলে অর্ধেকের বেশি মেশিনগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। 

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তার এ সুতা তৈরির করাখানায় মোট ৪০টি মেশিন থাকলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় ১২টি মেশিন চালাতে হচ্ছে। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন নেই বললেই চলে। গ্যাস সংকট থাকায় এই সুতা তৈরির কারখানায় দুটি জেনারেটর বন্ধ রয়েছে। ফলে মেশিন বন্ধ রেখে শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতনভাতা দিতে হচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে গ্যাস কোম্পানিদের একাধিক অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা পাওয়া যাচ্ছে না বলে এ কারখানার কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন। 

কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর যমুনা স্পিনিং ডিভিশনের জিএম (প্রশাসন ও মানব সম্পদ) লিয়াকত হোসেন বলেন, দিনভর কারখানায় গ্যাস থাকে না। কারখানার চার শিফটের মধ্যে এক শিফট কাজ চলে; বাকি তিন শিফট কাজ করানো যাচ্ছে না। কারখানার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আনা যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন মারাত্বক ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কারখানার শ্রমিকদের বেতন দিতে কষ্ট হবে।

কালিয়াকৈর পুর্বচান্দরা বোর্ড মিল এলাকার লিজ ফ্যাশন ও লিডা টেকস টাইল কারখানা জিএম জাহাঙ্গীর আলম জয় জানান, বেশিরভাগ সময়ই গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারখানায় গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হয় ৬ পিএস আই আমরা ৩ পিএসআই পাচ্ছি না। গ্যাসের চাপের কারণে যে পরিমাণ উৎপাদন করার কথা সেই পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে না। কারখানার উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। ফলে শ্রমিকদের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় খান ব্রাদার্স কারখানার এমডি হযরত আলী জানান, গ্যাসের চাপ বাড়ানোর দাবি জানানো হলেও কোনো উন্নতি হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে ভালো হলেও সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনদিন গ্যাসের চাপ থাকে না। 

কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ব্যবসায়ী নাহিদুল ইসলাম জানান, কারখানায় গ্যাসের চাপ ৫ পিএসআই বেশি উঠে না। বাধ্য হয়ে ডিজেলের জেনারেটর চালাতে হয়। এভাবে ডিজেল ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। তখন লোকসান গুনতে হবে।

এসএ স্পিনিং মিলস লিমিটেডের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. তালেবুর রহমান বলেন, গত ছয় মাস ধরে গ্যাস সংকটে এই স্পিনিং মিল বন্ধের উপক্রম হয়ে যাচ্ছে। যেখানে মোট ৪০টি সুতা তৈরির মেশিন চালাতে ১০ পিএস গ্যাস লাগে; সেখানে প্রতিদিন গ্যাসের চাপ পাচ্ছি ১ থেকে দেড় পিএস। ফলে অর্ধেকের বেশি মেশিন বন্ধ রেখে শ্রমিক কারখানায় বসিয়ে রাখা হচ্ছে। এ কারণে প্রতি মাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সহসভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, পোশাক কারখানাগুলো উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার জন্য অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং প্রয়োজনীয় গ্যাস আমদানি করে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বর্তমানে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হলেও আমাদের চাহিদা পূরন হচ্ছে না।

তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গাজীপুর জোনের ডিজিএম মো. শাহাজাদা ফরাজী বলেন, গাজীপুরে যে পরিমাণে গ্যাসের চাহিদা সেই পরিমাণে গ্যাস পাওয়া যায় না। যার কারণে কিছু কিছু এলাকায় গ্যাসের সংকট রয়েছে। এছাড়া অনেক এলাকায় আবাসিকের সংযোগে পাইপগুলো পুরাতন হয়ে যাওয়ায় বাসাবাড়িতেও গ্যাসের সমস্যার রয়েছে। সেগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা হচ্ছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৭ জানুয়ারী ২০২৪,/বিকাল ৪:৪৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit