ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে ‘ডামি নির্বাচন’ আখ্যায়িত বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী নির্বাচন কমিশনকে “লাল কার্ড” প্রদর্শন করেন।
আজ ৩ ডিসেম্বর (২০২৪) বুধবার বিকাল ৪ টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রহসনমূলক ডামি নির্বাচন বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করার দাবিতে ‘গণতন্ত্রের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে এক মানববন্ধন থেকে নির্বাচন কমিশনকে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়।
মৌন মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী নূমান আহমাদ চৌধুরী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী সাকিবুর রনি, নৃত্যকলা বিভাগের ১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী সাইমুন নাহার কর্ষী, সংগীত বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী সীমা আক্তার, প্রাণরসায়ন বিভাগের ১৮-১৯ বিভাগের শিক্ষার্থী উমামা ফাতেমা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী আরমানুল হক, টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের ১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী জালাল আহমদ প্রমুখ। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
জালাল আহমদ বলেন , “আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার ক্ষমতায় আসার পর ভোট ডাকাতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতিতে হ্যাট্টিক করতে যাচ্ছে। অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিল করে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনী সমস্যার সমাধান করতে হবে”।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থী নূমান আহমদ বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি নখদন্তহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে নিজের কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা নেই। এই কমিশন ও সরকারের অধীনে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। তাই অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সংসদ ভেঙে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে”।
মানববন্ধন থেকে ৪ দফা দাবিসম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। দাবিসমূহ-
১. আগামী ৭ই জানুয়ারির প্রহসনমূলক পাতানো ডামি নির্বাচন বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে।
২. সকল দলের অংশগ্রহণে সংলাপ ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে মহান সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংস্কার করে একটি টেকসই ও সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে হবে।
৩. সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. নির্বাচনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের অন্যান্য সকল অঙ্গসমূহের সাথে একাডেমিয়ার সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে।
কিউএনবি/আয়শা/০৩ জানুয়ারী ২০২৪,/রাত ৮:০৮