মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

‘ফিফা মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল’

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৫১ Time View

ম্পোর্টস ডেস্ক : পেনাল্টি মিস, ২ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া এবং রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয়— মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের সাক্ষী হয়েছে ফুটবল বিশ্ব। তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটলেও, আর্জেন্টিনার এই জয় ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ম্যাচ শেষে ফিফা এবং আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সরাসরি ‘টুর্নামেন্ট পাতানো’ এবং রেফারিকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে পুরো মিশর শিবির। 

ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের পর জোড়া গোল করে চালকের আসনে বসেছিল মিশর। তবে দ্বিতীয়ার্ধে এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন নাটকের জন্ম দেয় আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু ম্যাচের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিশরের কোচ ও খেলোয়াড়রা। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান দাবি করেন, মাঠের বাইরের ‘অন্য কোনো শক্তি’ এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। ফিফা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মেসি ও আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

হোসাম হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে সবদিক থেকে ভালো খেলেছি। কিন্তু ম্যাচের ফলাফল মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের অদৃশ্য শক্তি দ্বারা প্রভাবিত ছিল। সম্ভবত তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকে। ফুটবলে কখনো কখনো এমন কিছু বাহ্যিক উপাদান কাজ করে যা টেকনিক্যাল পারফরম্যান্সকেও ছাড়িয়ে যায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সব স্তর থেকে সুবিধা পেয়েছে।’ 

ভিএআর ও পেনাল্টি নিয়ে ক্ষোভ

মিশরীয় কোচের দাবি, ম্যাচের ওপর আর্জেন্টিনার একটা মনস্তাত্ত্বিক চাপ ছিল। তিনি বেশ কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যার মধ্যে বক্সের ভেতর মোহামেদ সালাহকে ফাউল করার পরও পেনাল্টি না দেওয়া এবং মিশরের একটি গোল ভিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে বাতিল করা অন্যতম। রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা দলের পক্ষ থেকে একটা চাপ কাজ করছিল। আমরা শুরুতেই এই ম্যাচের রেফারি নির্বাচনের আপত্তি জানিয়েছিলাম (২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের প্রেক্ষাপটে)।

এখানে আমরা কোনো সম্মান বা ফেয়ার প্লে (সুষ্ঠু খেলা) দেখিনি। সালাহকে ফাউল করার পর পেনাল্টি দেওয়া হলো না, এমনকি ভিএআর চেকও করা হলো না! আমাদের দ্বিতীয় গোলটি কোন যুক্তিতে বাতিল করা হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়। ম্যাক অ্যালিস্টার যখন জার্সি টেনে ধরলেন, তখনো রেফারি চোখ বুজে ছিলেন। জীবনটাই বৈষম্যময়, কিন্তু খেলাধুলার মাঠেও কেন এমন অবিচার হবে?’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সুন্দর ভাষায় বলতে পারতাম যে ‘আমাদের ভাগ্য খারাপ ছিল’, কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায় এবং অবিচার করা হয়েছে।’ ম্যাচ শেষে ব্রডকাস্টার ‘বিইন স্পোর্টস’-এর সঙ্গে আলাপকালে হোসাম হাসান জানান, ম্যাচ চলাকালীনই তিনি রেফারির ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন। 

তিনি বলেন, ‘আমি রেফারিকে সরাসরি বলেছি যে যা হচ্ছে তা মোটেও ঠিক নয়। এটি আর্জেন্টিনার একটি অযোগ্য জয়। আমি দেশে ফিরে যাওয়ার পর আর কখনোই বিশ্বকাপ ফুটবল দেখব না, কারণ এই প্রতিযোগিতায় কোনো ন্যায়বিচার নেই।’ মিশরীয় কোচের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ফিফা-র নীতিমালার কড়া লঙ্ঘন হওয়ায় এই মন্তব্যের জেরে মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং বিশেষ করে কোচ হোসাম হাসানের ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক জরিমানা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শাস্তি যাই হোক, ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই ম্যাচটি মাঠের লড়াই এবং মাঠের বাইরের বিতর্ক—উভয় কারণেই ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৮ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ১:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit