এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় শিশুদের মধ্যে বাড়ছে ঠান্ডার প্রবণতা। দক্ষিন অঞ্চলের জনপদে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চৌগাছায় দিন দিন বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ। কয়েক দিনে উপজেলার সরকারি মডেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ঠান্ডা আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে অভিভাবকেরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। আর চিকিৎসকরা বলছেন, চিকিৎসার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকতে হবে।ঠান্ডাজনিত কারণে গত কয়েক দিনেই উপজেলার সরকারি মডেল হাসপাতালসহ শতাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া (প্রদাহ), সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হওয়া শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটছে অভিভাবকরা। এদিকে শিশুদের পাশাপাশি নানা বয়সী নারী-পুরুষরাও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে ঠান্ডায় আক্রান্ত রোগীর চাপ।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) উপজেলার সরকারি মডেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গেলে কথা হয় উপজেলার সরকারি মডেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের শিশু নিরব হাসান (২) তার মা সাদিয়া খাতুন বলেন, হঠাৎ করে ঠান্ডা বেশি পড়ায় আমার সন্তানের নিউমোনিয়া শুরু হয়। পরে এ হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয়। এখন অনেকটা সুস্থ মনে হচ্ছে।উপজেলার সিংহঝুলী গ্রামের সুমি আক্তার বলেন, আমার সুবহার বয়স ৭ মাস। অতিরিক্ত শীতের কারণে আমার শিশু নিউমোনিয়া হয়েছে। সেজন্য এ হাসপাতালে ছুটে আসি। এখানে ঠান্ডাজনিত কারণে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা অনেক।পেটভরা গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, আমার শিশু আলামিন হোসেন (৪) সে হঠাৎ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে সরকারি মডেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করি। ৩ দিন আগে এখানে ভর্তি করে ছিলাম আজ বাড়ীতে চলে যাবো।
সরকারি মডেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সেবিকা তৃপ্তি মজুমদার বলেন, শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ সরবরাহ আছে। আমরা সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে আছি। আর চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুদের অভিভাবকসহ সবাইকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।সরকারি মডেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, বলেন, ঠান্ডাজনিত কারণে আগের তুলনায় হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে। গত ১ সপ্তাহে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ঠান্ডা রোগীদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। রোগীর সেবায় ডাক্তার ও নার্স সার্বক্ষণিক ভাবে সেবা দিয়ে চলেছেন।
কিউএনবি/অনিমা/২১ ডিসেম্বর ২০২৩/দুপুর ১:১২