এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় গোল আলুর আবাদ বেড়েছে। আলুর ক্ষেতে পরিচর্যা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। দেশের বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলা। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে কৃষকরা আলুর ক্ষেত পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলা জুড়ে বিশাল এই কৃষি কর্মযজ্ঞে হাজার হাজার শ্রমিক মাঠে কাজ করছেন। নারীরাও আলু ক্ষেত দাড়া করার (চারার গোড়ায় মাটি) দেওয়ার কাজে ব্যস্ত।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ডাইমন্ড, কার্ডিনাল ও এস্টারিকম জাতের আলু চাষ হয়েছে ৩৮০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। তিনি বলেন উপজেলার ধুলিয়ানী, চৌগাছা, নারায়নপুর, হাকিমপুর, পাতিবিলা, জগদিশপুর, ফুলসারা স্বরুপদাহ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় আলু চাষ বেশি হয়ে থাকে।
গত মৌসুমে আলুর ভালো ফলন ও বাজার মূল্যে লাভবান হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার বেশ উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে আলু চাষ করছেন। তবে অসময়ে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জমিতে পানিদ্ধতায় আলু চাষে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। এদিকে গত মাসে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কারণে আগাম আলু চাষ অনেকটা ব্যাহত হয়।উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে কৃষক জমিতে পুরোদমে আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা আলু ক্ষেতে সেচ, সার, স্প্রে ও দাড়া করার কাজ করছেন। অনেক কৃষক বাজার ধরতে আগাম আলুর চাষ শুরু করেন। তবে আলু রোপনের সঠিক সময় ১ লা নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। আলু উত্তোলন শুরু হবে আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে। আলু রোপনের পর তা পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে সময় লাগে তিন মাস। আলু আবাদে কৃষকদের সহায়তা করছেন বাড়ির নারীরাও।
বর্তমানে বাজারে আলুর চড়া দাম। অনেক কৃষক জমি থেকে অপরিপক্ষ আলু তুলতে শুরু করেছেন। নতুন আলু বাজারে ৬৫/৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আলু ব্যবসায়ীরা কৃষকের ক্ষেতে গিয়েই নতুন আলু ৬০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।চাষিরা জানান, এ অঞ্চলে অনেক কৃষকের আর্থিক অনটনেও অপরিপক্ষ আলু ক্ষেত থেকে তুলে বিক্রি করে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আগাম আলুর চাষ করলেও আরো বেশী দামের আশায় আলু তুলছেন না। বর্তমানে উপজেলায় আলুর জমিতে ২ থেকে ৩ হাজার শ্রমিক আলু চাষে নিয়োজিত রয়েছেন। এখানকার স্বচ্ছল কৃষকরা ওই শ্রমিকদের দিয়ে সপ্তাহ বা দিন চুক্তিতে চাষাবাদ করাচ্ছেন। আলু চাষকে ঘিরে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সব পূঁজিও যাচ্ছে মাটির নিচে অর্থাৎ আলুর জমিতে। আলু চাষাবাদ মৌসুমে কৃষকের ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দেয়। মার্চ মাসে আলুর উঠার পর কৃষকের আর্থিক অভাব ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছুই আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠে।
উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের শাহাজাতপুর গ্রামের আলু চাষি মুজিবার রহমান বলেন, এবার তিনি ২ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করছেন। মাঝে অসুময়ে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় আলু আবাদে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশাবাদী তিনি।নারায়নপুর ইউনিয়নের পেটভরা গ্রামের আলু চাষী আব্দার রহমান বলেন, এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করছেন। এর বেশির ভাগ জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করছেন। আলু চাষে এবারও লাভবান হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাবিবর হুসাইন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।
কিউএনবি/অনিমা/২১ ডিসেম্বর ২০২৩/দুপুর ১:০৮