ডেস্ক নিউজ : সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে তৃতীয় ধাপে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টা অবরোধের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার। পরবর্তী কর্মসূচি নিয়েও চিন্তাভাবনা করছেন বিএনপি নেতারা। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিরতি দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের কারণে নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। খুঁজে খুঁজে নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। প্রতিদিনই চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান। গ্রেপ্তার এড়ানোর নির্দেশনা থাকায় প্রকাশ্যে আসার সুযোগ পাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা। তাই হরতাল, অবরোধের বিকল্প আপাতত ভাবছেন না তারা। ওই নেতারা বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) একতরফা তফসিল ঘোষণা করলে লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে দলের হাইকমান্ডের।
এরপর আবার হরতাল নাকি অবরোধ কর্মসূচি আসবে, জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা যে কর্মসূচির মধ্যে আছি এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে জনগণের ভোগান্তি লাগবে ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে বিরতি দিয়ে কর্মসূচি পালন করছি। পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে দলের হাইকমান্ড স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাই এ মুহূর্তে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘সরকার পতনের এক দফার দাবি আদায়ে চূড়ান্ত আন্দোলন চলছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে শুরু হবে আন্দোলনের শেষ ধাপ। তার আগে নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলবেন। যখন হাইকমান্ডের সিগন্যাল আসবে, তখন একযোগে সবাই মাঠে নামবেন।’নতুন কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা সংবিধান-স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেই থাকব। এখনই বলা যাচ্ছে না কী কর্মসূচি আসবে।’
গত ২৮ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক দফা দাবি আদায়ে মহাসমাবেশ করে বিএনপি। মহাসমাবেশ ঘিরে সহিংস ঘটনা ঘটে। পরদিন দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে দলটি। এরপর এক দিন বিরতি দিয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। মাঝখানে শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে রবিবার থেকে আবার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ দেওয়া হয়। ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক দিনের বিরতি দিয়ে আবার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ কর্মসূচি শেষ হবে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৬টায়।
হরতালের পর তিন দফার অবরোধ কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ২০১৮ সালের নির্বাচনে যারা অংশ নিয়েছেন কিংবা আগামীতে যারা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান তাদের রাজপথে দেখা যাচ্ছে না। দু-একজন বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে অবরোধের সমর্থনে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যাদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা গেছে, তারা হলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণসহ কয়েকজন নেতা।
গতকাল বুধবার রাতে তৃতীয় দফার অবরোধের সমর্থনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে মশাল মিছিল করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক।
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সভা-সমাবেশ, ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে পূর্বপরিকল্পিত হামলা করে মামলা দিয়ে একের পর এক জ্যেষ্ঠ নেতাসহ সারা দেশে তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের পর্যন্ত গ্রেপ্তার করছে। এ কারণে নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। এরই মধ্যে সুযোগ বুঝে তৃণমূল নেতাকর্মীরা অবরোধের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল করছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক সম্পাদক বলেন, ‘আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছি। প্রকাশ্যে আসতে পারছি না। আমার মতো সম্পাদক পর্যায়ের নেতা যেখানে প্রকাশ্যে আসতে পারছি না, সেখানে অন্যরা কীভাবে প্রকাশ্যে আসবেন। তবে দলের হাইকমান্ড এখনো আমাদের প্রকাশ্যে আসার নির্দেশ দেননি। দলের হাইকমান্ড যখন সবাইকে প্রকাশ্যে আসার নির্দেশনা দেবেন, তখন সবাই প্রকাশ্যে চলে আসবেন।’
কিউএনবি/আয়শা/০৯ নভেম্বর ২০২৩,/দুপুর ১২:২১