ডেস্ক নিউজ : দোয়া কুনুত তৃতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহা ও সুরা মিলানোর পর তাকবির বলে নতুন করে হাত উঠিয়ে তারপর হাত বেঁধে রুকুর আগে পড়তে হয়।
হযরত আসিমুল আহওয়াল রহ. বলেন, ‘আমি হযরত আনাস রা.কে নামাজে দোয়া কুনুত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, হ্যাঁ, নামাজে দোয়া কুনুত পড়বে। আমি বললাম, রুকুর আগে না পরে? তিনি বললেন, রুকুর আগে। আমি বললাম, অমুক আমাকে আপনার সম্পর্কে খবর দিয়েছে যে, আপনি বলেছেন রুকুর পরে। তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে। রাসুলুল্লাহ সা. রুকুর পরে মাত্র এক মাস দোয়া কুনুত পড়েছেন। (বুখারি ৩৭৯৬)
দোয়া কুনুত
اللّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِيْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ، وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ، اللّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّيْ وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْكَ نَسْعٰى وَنَحْفِدُ، نَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشٰى عَذَابَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতা ই-নুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা ওয়া নু’মিনুবিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা, ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর, ওয়া নাশকুরুকা ওয়া লা নাকফুরুকা; ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাই ইয়াফজুরুকা, আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু; ওয়া লাকা নুসাল্লি ওয়া নাসজুদু; ওয়া ইলাইকা নাসআ, ওয়া নাহফিদু; নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আজাবাকা; ইন্না আজাবাকা বিলকুফফারি মুলহিক্ব।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা আপনারই সাহায্যপ্রার্থী। একমাত্র আপনার কাছেই ক্ষমাপ্রার্থী। আপনার উপর আমরা ঈমান এনেছি, আপনার উপরই ভরসা করি, আপনার উত্তম প্রশংসা করি, আপনার শোকর আদায় করি, আপনার প্রতি অকৃতজ্ঞ হই না, যারা আপনার নাফরমানী করে, তাদেরকে পরিত্যাগ করি। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। হে আল্লাহ! আমরা আপনারই ইবাদাত করি, আপনার জন্যই নামাজ পড়ি, আপনার জন্যই সিজদা করি, আপনার দিকেই ধাবিত হই, আপনার হুকুম পালনের জন্যই প্রস্তুত থাকি, আপনার দয়ার আশা করি, আপনার শাস্তিকে ভয় পাই। নিঃসন্দেহে আপনার শাস্তি ভোগ করবে কাফির সম্প্রদায়।
দোয়া কুনুত কখন পড়বে
ইমাম আবু হানিফা রহ., ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ি রহ. প্রমুখ ইমামের সিদ্ধান্ত হলো, ‘দোয়া কুনুত সর্বদা পড়তে হবে। তবে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে, তা শুধু বিতর নামাজে পড়তে হবে। ইমাম মালেক ও শাফেয়ি রহ.-এর মতে তা ফজর নাসাজে পড়বে। ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেন, ‘দোয়া কুনুত বিতর নামাজের শেষ রাকাতে রুকুর আগে পড়তে হবে।
ইসলাম ও মুসলমানদের বিপদের সময় এ দোয়া সব নামাজে পড়ার বিধান রয়েছে। বিরে মাউনার মর্মান্তিক শোকাবহ দুর্ঘটনার পর রসুল্লাহ সা. এক মাস যাবৎ সব নামজে রুকুর পরে এ দোয়া পড়েছিলেন। তিনি শুধু এই এক মাস রুকুর পরে এ দোয়া কুনুত পড়েছিলেন।
দোয়া কুনুত পাঠের ফজিলত
হজরত আহমদ বিন হাম্বল, মুহাম্মাদ ইবনে ইসা আত-তিরমিজি ও আবু দাউদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, হাসান ইবনে আলী রা. এই দোয়াটি মুহাম্মদ সা.-এর কাছ থেকে শিখেছিলেন। হযরত আবু দাউদ রহ. আরও বলেছেন যখন মুসলমানদের ওপর কোনো বিপদ অথবা বিপর্যয় আসতো তখন মুহাম্মদ সা. দোয়া কুনুত পড়তেন।
কিউএনবি/আয়শা/০১ নভেম্বর ২০২৩,/রাত ৯:১৪