ডেস্ক নিউজ : প্রশ্ন : পাত্রী দেখার ইসলামি বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তর : বিয়ে মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। ইসলামে বিয়ে শুধু সামাজিক বন্ধন নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা একটি ইবাদত। তাই সঠিক জ্ঞান ও নৈতিকতা মেনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেকে বিয়ের আগে পাত্রী দেখার সময় সীমা অতিক্রম করে হাতের কনুই পর্যন্ত বা পায়ের হাঁটুর নিচ পর্যন্ত দেখেন, যা অনেক সময় বিতর্কের সৃষ্টি করে। এমনকি কিছু মানুষ মনে করেন, এভাবে পুরো শরীর দেখাই স্বাভাবিক ও প্রয়োজন। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি অন্যভাবে বিবেচিত।
রাসূল (সা.) বিয়ের আগে পাত্রীকে দেখা মুস্তাহাব হিসাবে উৎসাহিত করেছেন। যেমন মুগিরা ইবনে শুবা (রা.)-এর ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তিনি বিয়ে করার আগে পাত্রীকে দেখতে চান। তখন নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন : তুমি তাকে দেখে নাও, এতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। [সুনানুত তিরমিযি, হাদিস: ১০৮৭]। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিয়ের আগে মেয়েকে দেখা শরিয়তের দৃষ্টিতে মুস্তাহাব। তবে কতটুকু দেখা জায়েজ হবে, এ নিয়ে ফকিহদের মধ্যে কিছুটা মতানৈক্য রয়েছে।
বেশি গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী, পাত্রের জন্য পাত্রীর যেসব অঙ্গ দেখা জায়েজ তা হলো-চেহারা, হাতের কবজি পর্যন্ত দুই হাত, পায়ের টাখনু পর্যন্ত দুই পা; অতএব, হাতের কনুই বা তার ওপরে এবং হাঁটুর নিচ বা তার ওপরে দেখা জায়েজ নয়। যদি পাত্র আরও বিস্তারিত জানতে চায়, তবে এটি জানতে পারে নির্ভরযোগ্য মহিলাদের মাধ্যমে, সরাসরি দেখার অনুমতি নেই।
আল্লামা যফর আহমাদ উসমানি (রহ.) লিখেছেন : কেবল চেহারা, হাতের অগ্রভাগ ও পায়ের পাতা দেখা যাবে; মাংসবহুল বা পুরো শরীর দেখা যাবে না। [ইলাউস সুনান, ১৭/৩৭৯]। ইসলামিক বিধি মেনে পাত্রী দেখার মাধ্যমে পাত্র ও পাত্রীর মধ্যে সম্মান, ভালোবাসা ও বিশ্বাস গড়ে ওঠে। তাই সবার উচিত শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে, সীমা মেনে পাত্রী দেখা।
তথ্যসূত্র : আল-মাবসুত, ১০/১৫৫; বাদায়িউস সানায়ি, ৪/৩০১; তাবয়িনুল হাকায়েক, ৬/১৮; আল-মুহিতুল বুরহানি, ৫/৩৩৫; রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭০; ইলাউস সুনান, ১৭/৩৮০।
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
কিউএনবি/আয়শা/২৭ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৪:৫০