খোরশেদ আলম বাবুল শরীয়তপুর প্রতিনিধি : অসুস্থ থাকায় নির্বাচনী পরীক্ষার রেজাল্ট জানতে স্কুলে যেতে পারেননি দশম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া আক্তার (১৬)। রেজাল্ট পরবর্তী ছুটির দিনে বিদ্যালয়ে রেজাল্ট জানতে যাওয়ার অপরাধে তাকে নির্যাতন করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এমন ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর আব্দুল হাকিম পাবলিক (এএইচপি) উচ্চ বিদ্যালয়ে। মারিয়া সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বাছারকান্দী গ্রামের কৃষক আতাহার মোল্যার মেয়ে।
আহত ছাত্রী মারিয়া ও তার পরিবার অভিযোগ করে বলেন, গত ৮ অক্টোবর মারিয়ার এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। সেদিন মারিয়া অসুস্থ থাকায় বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি। সুস্থ হওয়ার পরে পূজার ছুটিতে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। গত ২১ অক্টোবর সোমবার থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কোচিং ক্লাশ শুরু হয়েছে। ২৩ অক্টোবর কোচিং ক্লাশ শেষে বিকালে প্রধান শিক্ষক মেহেদী মিজানকে অফিস কক্ষে দেখতে পেয়ে তার রেজাল্টের কথা জানতে চায়। প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়।
“তুই এতোদিন পর আজকে ছুটির দিনে রেজাল্ট জানতে চাস, তোর এতো বড় সাহস”- এ কথা বলতে বলতে মারিয়া আক্তারকে বেধরক পেটায় প্রধান শিক্ষক মেহেদী মিজান। শিক্ষকের হাত-পা জড়িয়ে ধরেও রক্ষা পায়নি মারিয়া। এক পর্যায়ে তাকে গালমন্দ করে ও ধাক্কা দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের করে দেয়। সেই সময় প্রধান শিক্ষক বলতে থাকেন, তোকে যেন আর এ স্কুলে না দেখি। শিক্ষকের মারধরের শিকার হয়ে মারিয়া কোচিং না করে বাড়ি চলে যায়। এখনও মেয়েটি অসুস্থ রয়েছে।
মারিয়ার মা মর্জিনা বেগম বলেন, শিক্ষকের পিটুনি খেয়ে মেয়েটা অসুস্থ। কিছু খেতেও পারছেনা। আমার মেয়েটা কি এমন অন্যায় করেছে যার কারণে প্রধান শিক্ষক এমন করে মারবে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মেহেদী মিজান বলেন, রেজাল্ট হবে ২৬ অক্টোবর। মেয়েটি ২৩ অক্টোবর এসে রেজাল্ট জানতে চায় তাই রাগের মাথা শাসন করেছি। এখনও যদি অভিভাবকদের কেউ এসে মেয়েটির পরীক্ষার সুযোগ করে দিতে বলে তাহলে সুযোগ করে দিব।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, চন্দ্রপুর আব্দুল হাকিম পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক পিটিয়েছে। এমন অভিযোগ আগেই শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিউএনবি/আয়শা/২৮ অক্টোবর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:০৮