আন্তর্জাতিক ডেস্ক : টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন মতে, ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘মালদ্বীপে ইসরাইলের বিরুদ্ধে পরিবেশ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এজন্য ইসরাইলি নাগরিকদের এই সময়ে মালদ্বীপে ভ্রমণ এড়াতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’
গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে আকস্মিক অভিযান চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ওই অভিযানের পর নতুন করে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত শুরু হয় যা গত ১৫ দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন জানানো দেশগুলোতে নিজ নাগরিকদের ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে ইসরাইল। তারই ধারাবাহিকতায় মালদ্বীপ ভ্রমণে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, হামাসকে অর্থায়ন করছে মালদ্বীপ। এছাড়া চলমান সংঘাতে বিপুল পরিমাণ অনুদান সংগ্রহ করে দেশটি ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়েছে এমন খবর সামনে আসার পরই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের মতোই মালদ্বীপ বারবার ইসরাইলকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দখলদারিত্ব বন্ধ করতে এবং ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা বন্ধ করারও আহ্বান জানিয়ে আসছে। ৭৮তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় কমিটির বৈঠক চলাকালেও মালদ্বীপ প্রতিনিধিরা বলেছেন, ফিলিস্তিনের জনগণকে ক্রমাগত চাপের মধ্যে রেখে তাদের অস্তিত্ব, পরিচয় মুছে ফেলার একটি অন্তহীন চক্রের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।
এছাড়া ফিলিস্তিনে শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে মালদ্বীপের দৃঢ় অবস্থান জানানোর পাশাপাশি দেশটির প্রতিনিধিরা গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানান।
২০১৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুমের প্রশাসনের সময় মালদ্বীপ প্রথম ইসরাইলি পণ্য বয়কটের ডাক দেয়।গাজায় ইসরাইল সামরিক অভিযান শুরু করার পর সমস্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বাতিল করেন তিনি। বর্তমান প্রশাসনও তার সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের যুদ্ধ ঘোষণার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মালদ্বীপ। এছাড়া উত্তর গাজার ১০ লাখেরও বেশি বেসামরিক লোককে দক্ষিণে স্থানান্তরিত করার ইসরাইলি নির্দেশ প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য অবরোধ তুলে নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
কিউএনবি/আয়শা/২১ অক্টোবর ২০২৩,/বিকাল ৫:১৯