রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যা করা দরকার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩১ Time View

ডেস্ক নিউজ : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই পক্ষ থেকেই সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভিসাকে একটা বড় বাধা হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর।

কূটনৈতিক বিশ্লেষক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমরা ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ভিসা খুলে দিয়েছি। তারাও বলছে, তারা খুলে দেবে, তবে এখনও চালু করেনি। এটা চালু হলে একটা পথ উন্মুক্ত হলো। ইতোমধ্যে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এখন ট্রেন চলাচলের একটা অনুরোধ থাকতে পারে। আরেকটা বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে ডিজেল আসছে, এটা আরও বাড়ানোর অনুরোধ থাকবে। সড়কপথে ব্যবসা এবং ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা যেটা বাতিল করেছে, সেটা আবার চালু করা। এই মুহূর্তে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা শুনতে পাচ্ছি, দুই পক্ষই আলোচনায় বসবে। এখন এই আলোচনা শুরু হলেও ডিসেম্বরের আগে এটাকে শেষ করে আনতে হবে। এটাও সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শুধু বাংলাদেশ চাইলে তো হবে না, ভারতও বোঝার চেষ্টা করবে বর্তমান সরকারের মনোভাব। ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে একটা মনোভাব তৈরি হয়েছে যে, মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক। সেটাও ভারত কিভাবে দেখে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমার মনে হয়, পারস্পরিক জানাশোনার মধ্যেই এই সফর থাকবে।’

এদিকে গতকাল (৭ এপ্রিল) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দিল্লি সফরে গেছেন। তার সফরসঙ্গী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বিএনপি সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম ভারত সফর। এই সফরের প্রাক্কালে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রনয় ভার্মা। শুধু তাই নয়, ভারতে দুই দিনের সফর শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একই বিমানে চেপে মরিশাসে যাবেন ড. খলিলুর রহমান।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ভারত কিন্তু এতদিন অপেক্ষা করেছে নির্বাচিত সরকারের জন্য। সেটা তারা বলেছেও। এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে, ফলে আলোচনাটা শুরু হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট চলছে, এখানে বাংলাদেশে পাশে ভারতের দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। যেহেতু ২০২৩ সালে একটা পাইপলাইন করা হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত ডিজেল প্রাপ্তির একটা চেষ্টা তো এই সফরে থাকবে।

পাশাপাশি ভিসা ইস্যু তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে ভিসা ইস্যু গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে দিল্লি চাইবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেন প্রথম সফরে দিল্লি যান। সে ব্যাপারেও আলোচনা হতে পারে। আগে একটি দলের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক ছিল, এখন তারা কীভাবে বিষয়টি পরিবর্তন করে সেটাও দেখার বিষয়। তবে আমাদের দিক থেকে জ্বালানি নিরাপত্তাই এখন প্রধান আলোচনার বিষয়।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস বলেন, ‘এখানে দুই দেশেরই একে অপরের প্রতি নির্ভরশীলতা আছে। ফলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দুই দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমি মনে করি, ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হওয়ার পর ভারত কিন্তু উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে। আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে শীতল সম্পর্ক ছিল, সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। এখন এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ সূত্র: ডয়েচে ভেলে

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৮ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ১০:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit