মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোর পদত্যাগ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আকস্মিক রাজনৈতিক রদবদলের অংশ হিসেবে পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক বছরের মাথায় প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তিনি পদ ছাড়লেন। 

মঙ্গলবার ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ৪০ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। তবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে আকস্মিক সরকার পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

বিদায়ী ভাষণে সভিরিদেঙ্কো বলেন, এই বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত ও নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি রেখেছিল। তিনি তার ওপর আস্থা রাখার জন্য সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং কাজের ফলাফলের ওপর নিজের বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মূলত বছরখানেক আগে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার একটি বড় দুর্নীতি মামলা জনসমক্ষে আসার পর সভিরিদেঙ্কোকে মন্ত্রিসভার প্রধান করা হয়েছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সমালোচকরা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমনে কঠোর ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে না পারার অভিযোগ তুলে আসছিলেন। 

এই রদবদল প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি কেবল এটুকুই বলেছেন যে, ইউক্রেন তার রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করছে এবং এই মুহূর্তে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন; তবে এর বাইরে মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি দেখাননি। অন্যদিকে, বিরোধী দল হলোস পার্টির আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক বিদায়ী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, আমাদের প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে—প্রতিদিন নতুন নতুন উপস্থাপনা, সংবাদ সম্মেলন এবং প্রতিদিন দুর্নীতির মামলায় একজন করে নতুন সন্দেহভাজনকে আমরা দেখেছি।

ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সভিরিদেঙ্কোর এই বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই দেশটির পুরো সরকারের পতন ঘটেছে। ফলে এখন নতুন করে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। পার্লামেন্টের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতো গাজ-এর প্রধান সের্হি কোরেতস্কি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। এ ছাড়া সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সভিরিদেঙ্কোর পূর্বসূরি এবং বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শমিহাল কিংবা বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভের নামও আলোচনায় রয়েছে। 

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে যখন ইউক্রেন ড্রোন ও দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে রুশ জ্বালানি অবকাঠামোকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই বড় পরিবর্তন এলো।

ইউক্রেনের শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মূলত অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণ, যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রাখা এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে রাশিয়ার নিরলস হামলার ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের দায়িত্ব পালন করেন। বিদায়ের প্রাক্কালে সভিরিদেঙ্কো সতর্ক করে বলেন, আসন্ন শীত মৌসুমের প্রস্তুতিই হবে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ধারণা করা হচ্ছে, শীতের তীব্রতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড এবং গ্যাসলাইনে তাদের হামলার তীব্রতা আরও দ্বিগুণ করতে পারে। ফলে অভ্যন্তরীণ এই সংকট মোকাবিলাই হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রধান পরীক্ষা।

সূত্র: রয়টার্স

কিউএনবি/অনিমা/১৪ জুলাই ২০২৬,/রাত ৯:৫২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit