এম এ রহিম, চৌগাছা, (যশোর) : বাংলাদেশ ডাক বিভাগের এক বিশ্বস্ত কর্মী চৌগাছার নিজাম পিয়ন। এক দুই বছর নয় দীর্ঘ ৪৩ বছর যাবৎ অত্যান্ত বিশ্বস্ততা এবং নিয়মানুবির্ততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন এ বিভাগে পিয়ন নিজাম। পেশায় পিয়ন হলেও নিজাম উদ্দীন এক জন বড় মনের মানুষ। তিনিউপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জামলতা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৫৭ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন মরহুম আব্দুর রহিম বকশো।শনিবার (১৪ অক্টোবর) চৌগাছা পৌর শহরের আব্দুল মুন্নাফ কালু মিয়ার চায়ের দোকানে বসে কথা হয় নিজাম উদ্দিন খানের সাথে, তিনি বলেন যোগদানের সময় আমার বেতন ছিল ১২০/- টাকা ৪৩ বছর পরে আমার বর্তমান বেতন চার হাজার তিনশো ৫৪ টাকা, তার মানে গড়ে বছরে আমার বেতন বেড়েছে ১০০/- টাকা, যা দ্রব্যমুল্যের সাথে খুবই অসংগতিপূর্ন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন এখন বয়স হয়ে গেছে অন্য কোন কাজও করতে পারিনা আবার বেতনও খুব কম, যারফলে খুব কষ্ট করে চলতে হয়। তিনি আরো বলেন এখন চিঠিপত্র কম আসলেও একসময় প্রচুর চিঠি আসতো গ্রামের পর গ্রাম পায়ে হেটে আমি চিঠি বিলি করতাম।এলাবাসী জানান, নিজাম খানের পিতা রহিম বকশো অনেক জমিজমার মালিক ছিলেন। তিনি তৎকালিন সময়ে লাইসেন্সকৃত বন্দুকের মালিক ছিলেন। নিজাম উদ্দীনরা ছিলেন এক ভাই আর এক বোন। তার বোনের সন্তানাদি হওয়ার পূর্বেই তিনি মারা যান। যারফলে নিজাম উদ্দিন তার পিতার বেঁচে থাকা একমাত্র সন্তান হিসেবে অনেক ভূস¤িপত্তর মালিক হন। পিতা-মাতার খুব আদরের সন্তান হওয়ায় কোনদিন কৃষিকাজ করতে দেননি তার। ফলে পিতা মারা যাওয়ার ক্ষেতখামারে ঠিকমত কাজ করতে না পারায় অভাবের তাড়নায় পিতার রেখে যাওয়া জায়গা জমির বেশির ভাগ অংশ বিক্রি করে ফেলেন। এক পর্যায়ে ১৯৮০ সালের ১৪ মে মাসিক মাত্র ১২০/- টাকা সন্মানির বিনিময়ে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সিংহঝুলি পোস্ট অফিসে পিয়ন পদে যোগদান করেন নিজাম উদ্দিন। খান বংশে জন্মগ্রহণ না করেও নিজের নামের শেষে খান লিখতে পছন্দ করেন নিজাম উদ্দিন খান, তাইতো কেউ রসিকতা করেও নাম জিজ্ঞেস করলে বলেন আমার নাম নিজাম উদ্দিন খান। পিয়ন পদে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যে তার বিশ্বস্ততা এবং যার চিঠি তার হাতে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টার কারণে মানুষের কাছে অত্যান্ত প্রিয় ও বিশ্বস্তব্যাক্তিতে পরিণত হয়ে যান নিজাম উদ্দিন খান। ইলেকট্রোনিক্স যোগাযোগ মাধ্যম প্রচলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজাম পিয়নের কর্মব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মত।নিজাম উদ্দিন খান সংসার জীবনে দুই ছেলে আর তিন কন্যা সন্তানের জনক। বর্তমানে দুই ছেলে,স্ত্রীআর নাতিপুতি নিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন চলে নিজাম উদ্দীন খানের। তিনি সরকারের প্রতি বেতন বৃদ্ধির দাবী জানিয়েছেন। নিজাম উদ্দিন স¤র্পকে জানেত চৌগাছা সরকারি ডিগ্র কলেজের শিক্ষক ও সিংহঝুলি গ্রামের বাসিন্দা মানিবুর রহমান লেন্টু বলেন তার মত এমন বিশ্বস্ত এবং নিয়ম মেনে চিঠি বিলি করা মানুষ দেশে আর একটা আছে বলে আমার জানা নেই। মসিয়ূরনগর গ্রামের বাসিন্দা ও চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিজাম উদ্দিন এমন একজন বিশ্বস্ত মানুষ যার সাথে অন্য কারো তুলনা করা কঠিন। আমি শুনেছি যে, নিজাম উদ্দিন একজনের চিঠি অন্য কারো হাতে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন তার বিশ্বস্ততাই তাকে মানুষের ভালোবাসা এনে দিয়েছে।
কিউএনবি/অনিমা/১৪ অক্টোবর ২০২৩/দুপুর ২:১২