স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : মহিলা রোগীদের একটু ভাল সেবা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে যশোরের মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডটি শিতাতপ নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা করা হয় ২০২০ সালে। সেই থেকে শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়ার্ডে মহিলা রোগীরা বেশ স্বাচ্ছন্দে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছিলেন। কিন্তু বিধিবাম। সম্প্রতি মহিলা ওয়ার্ড থেকে সব এসি অপসারন করে তা স্থাপন করা হয়েছে হলরুমে। ফলে দূর্বিসহ গরমে মহিলা রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানাযায়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ করে মহিলা রোগীদের একটু ভাল সেবা প্রত্যয়ের উদ্দেশ্যে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০২০ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডটি শিতাতপ নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা করা হয়। উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জাপান সরকারের(জাইকার) অর্থায়নে মহিলা ওয়ার্ডটি শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত করতে চারটি অত্যাধুনিক( আড়াইটনের জেনারেল এসি) এসি ও ১৫ টি ফ্যান বরাদ্দ করা হয়।
সে মোতাবেক ২০২০ সালের ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শুভ্রা রানী দেব নাথের কাছে এসি, ফ্যানসহ অন্যান্য সামগ্রি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের তৎকালিন সিভিল সার্জন ডা: আবু শাহিন, উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হোসেন। এর কিছুদিনের মধ্যে ওয়ার্ডটি সুসজ্জিত করে শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হয়। এছাড়াও টয়লেটটি মেরামতের পর ওয়ার্ডটি রং করা হয়। ফলে ঝকঝকে তক তকে শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়ার্ডে মহিলা রোগিরা বেশ স্বাচ্ছন্দে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি মহিলা ওয়ার্ড থেকে সব এসি অপসারন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(৮ আগষ্ট) দুপুরে সরেজমিন মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, একেতো বর্তমান প্রচন্ড গরম তার ওপর ভিড়ে রোগীরা হাসফাস করছে। এ সময় কথা হয় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আসা খানপুর গ্রামের বৃদ্ধা রাশিদা বেগম(৭০)এর সাথে। তিনি জানান, প্রচন্ডে গরমে তার খুব কষ্ট হচ্ছে। আবার তাহেরপুর থেকে আসা গ্রহবধু সুদেবী(২০) জানান, একেতো প্রচন্ড ভীড়, তার ওপর ভ্যাপসা গরমের কারনে অসহ্য লাগছে। গরমে কষ্টের কথা শুধু রাশিদা অথবা সুদেবীর নয়। গরমে এমন কষ্টের কথা জানিয়েছেন মিনা খাতুন, বেনু দাস, তামান্না খাতুনসহ অধিকাংশরা।
এ সময় দায়িত্বরত স্টাফ নার্স হালিমা খাতুন, মিডওয়াইফারি টুম্পা জানান, ৩১ শয্যার মহিলা ওয়ার্ডে বর্তমানে রোগি আছে ৪১ জন। তার ওপর শিতাতপের ব্যবস্থা না থাকায় গরমে রোগিদের একটু কষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তন্ময় কুমার বিশ্বাস জানান, এসিগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অপসারনের পর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমতিক্রমে মেরামতের পর তা হলরুমে স্থাপন করা হয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য তুলসি বসু ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেন জানান, এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানেননা। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোন অবস্থাতেই মহিলা ওয়ার্ড থেকে এসি অপসারন করা মেনে নেওয়া হবেনা। এ ব্যাপারে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ব্যক্ত করেন।
কিউএনবি/আয়শা/৮ অগাস্ট ২০২৩,/রাত ১১:১৪