সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন

চৌগাছায় ছড়িয়ে পড়েছে গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ।
  • Update Time : সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০২৩
  • ১৬৬ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগকে আঞ্চলিক ভাষায় পক্স বলা হয়। এ রোগ নিরাময়ে গরুর খামারি ও মালিকরা ব্যাপক দুচিন্তায় পড়েছেন। অনেকে কবিরাজের ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছে। উপজেলার ফুলসারা, সিংহঝুলী, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, হাকিমপুর, জগদিশপুর, পাতিবিলা, নারায়নপুর, সুখপুকুরিয়া, স্বরুপদাহ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরুর এ রোগ দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসায় এখনও পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। তবে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে কোন খামারি এন্টি লাম্পি স্কিন ভ্যাকসিন ব্যবহার করলে এ রোগ আর হবে না। পল্লী পশুচিকিৎসক হাসানুর রহমান জানায়, এ রোগ সারতে যারা কবিরাজি চিকিৎসার পাশাপাশি নিম নিশিন্দার পাতা জড়িয়ে ভালো করার চেষ্টা করছেন তারা ভুল করছেন। আক্রান্ত গরু প্রাণিস¤পদ অফিসের পরামর্শে চিকিৎসা করানো উচিত। দ্রুত চিকিৎসা না করালে আক্রান্ত গরু-বাছুরের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।

উপজেলার বহিলাপোতা গ্রামের খামার মালিক দিপ্ত ঘোষ বলেন, তার একটি গাভী ও একটি বাছুর লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বাছুরটি প্রায় ২০ দিন আক্রান্ত হয়েছে। ডাক্তারি চিকিৎসা নিয়েও কোন কাজ হয়নি। গাভীটিও ১০দিন আক্রান্ত হয়ে রয়েছে। বাছুরটির হাটু ফুলে এখন রক্ত ঝরা শুরু হয়েছে। ওষুধে কাজ না হওয়ায় এখন কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গরু দুটি খুবই দুর্বল হয়ে গেছে।

উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের কবির হোসেন বলেন, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরুর এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসা দিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় গরুর মালিকরা কবিরাজের ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছেন। ঝাড়ফুঁকের পাশাপাশি নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে রস খাওয়ানো হচ্ছে। অনেকে আক্রান্ত গরুর গায়ে নিমপাতাও বেঁধে রাখছেন।

পল্লী পশুচিকিৎসক হাজরাখানা গ্রামের আসাদ হোসেন বলেন, উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামের সাহেব আলীর ৩টি, পেটভরা গ্রামের জসিম উদ্দীনের ২টি, টেঙ্গুরপুর গ্রামের আবু কালামের ৪টি, চাঁদপাড়া গ্রামের আব্দুল মিয়ার ৪টি, খড়িঞ্চা গ্রামের আব্দুল জলিলের ৩টি, পৌর এলাকার বেলেমাঠ গ্রামের সাহেব আলীর ২টি, লোকমান হোসেনের ২টি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চাঁদপাড়া গ্রামের আব্দুল মিয়ার ১টি বাছুর গরুর অবস্থা বেশ খারাপ। গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগ রোধে চৌগাছা উপজেলা প্রাণিস¤পদ অফিসের পক্ষ থেকে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হাট-বাজারে মাইকিংসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ রোগ রোধে করোনীয় বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পৌর এলাকার পল্লি প্রাণি চিকিৎসক পিন্টু রেজা বলেন, পৌর এলাকা বাকপাড়া, বিশ্বাসপাড়া, ইছাপুর বেড়বাড়ী, বেলেমাঠ ও তারনিবাশসহ বিভিন্ন এলাকায় গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি সোমবার ৮/১০টি বাড়িতে গিয়ে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা দিয়েছেন। প্রতিদিনই এভাবে চিকিৎসা চলছে। বেলেমাঠ গ্রামের কবিরাজ শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি এ রোগে আক্রান্ত গরুর ঝাড়ফুঁকের পাশাপাশি নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে রস খাওয়ানোর মাধ্যমে চিকিৎসা দেন। তিনি সম্প্রতি এভাবে এ রোগের চিকিৎসা দিয়েছেন। তার দাবি, এ চিকিৎসায় গরু ভালো হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনোয়ারুল করিম বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ জাতীয় রোগ মশা-মাছি থেকে ছড়ায়। এ রোগের এখনও পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। আক্রান্ত গরু ভালো হতে অনেক সময় লাগে। সাধারণ চিকিৎসা দিয়েই আক্রান্ত গরু ভালো করা হচ্ছে। দ্রুত ডাক্তারি চিকিৎসা না নিলে আক্রান্ত বাছুরের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। যারা আক্রান্ত গরুর কবিরাজি চিকিৎসা করাচ্ছেন, তারা ভুল করছেন। প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শে চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হচ্ছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪ জুলাই ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit