ক্যাপশন : জেলার চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোতে প্রায় ১৬০ মিটার ব্লক পিচিং নদীগর্ভে ধসে পড়েছে। ১৫দিনে দু’পা ভাঙনের শিকার এই বাঁধটি। কর্তৃপক্ষের দায়সারা কর্মকান্ডে ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা।
রাশিদুল ইসলাম রশেদ কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াল ভাঙন ঠেকাতে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর রক্ষা বাঁধই এখন নিজেই ধসের মুখে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই স্থানে দ্বিতীয়বারের মতো ব্লক পিচিং নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন নদীতে একযোগে ৪২টি পয়েন্টে ভয়াবহ নদীভাঙন চলতে থাকায় নদীপাড়ের হাজারো মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোতে প্রায় ৬০ মিটার ব্লক পিচিং নদীগর্ভে ধসে পড়ে। এর আগে গত ১ জুলাই একই স্থানে প্রায় ১০০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে যায়। জিও ব্যাগ ফেলে সেই ক্ষতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় আবারও একই স্থানে ধস নামায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা এলেই বাঁধের এই অংশে ধস শুরু হয়, এরপর জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজের গুণগত মান সন্তোষজনক না হওয়ায় নদীর স্রোত বাড়লেই একই স্থানে বারবার ধস দেখা দিচ্ছে।
ফলে উত্তর ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কাঁচকোল বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা এখন সরাসরি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালে প্রায় ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়।
কিন্তু নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মাথায়, ২০১৮ সাল থেকেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দিতে শুরু করে। এরপর থেকে প্রায় প্রতিবছরই একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে, যা প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এদিকে শুধু চিলমারী নয়, চলমান বর্ষা মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে ৪২টি পয়েন্টে ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও জনপদের বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ইতোমধ্যে ৪০০টি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। আরও ১২ হাজার জিও ব্যাগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। যা ফেললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনি করি।”তবে নদীপাড়ের মানুষের প্রশ্ন, প্রতিবারই যদি একই স্থানে জিও ব্যাগ ফেলতে হয়, তাহলে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধের কার্যকারিতা কোথায়? স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, প্রকল্পের গুণগত মান যাচাই করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় এনে স্থায়ী ও টেকসই নদীশাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৮ জুলাই ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৫৫