আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হঠাৎ করেই ইসরায়েলের পার্শ্ববর্তী দেশ জর্ডানে হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন ধাপে শুরু হওয়া এই সংঘাতে জর্ডান ইরানের প্রধানতম লক্ষ্যবস্তু।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিত সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। শনিবার আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত উনত্রিশতম সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের অভ্যন্তরে গত রাতে চালানো মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে দেশটির অ্যারোস্পেস ফোর্স ‘নাসর-২’ অভিযানের বিশতম ধাপ পরিচালনা করেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার ও পার্কিং র্যাম্প লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত দুটি যুদ্ধবিমানসহ মোট পাঁচটি বিমান ধ্বংস হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন হাসপাতাল, সেতু, রেলপথ, বন্দর ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। যুদ্ধের ময়দানে পরাজয় ঢাকতেই ওয়াশিংটন এ ধরনের পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে জর্ডানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীকে দেশটির ভূখণ্ডে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইআরজিসি বলেছে, মুসলিম ভূমিতে বিদেশি সৈন্যরা বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
এদিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার রাতে ইরানের হরমুজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাসসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করা হয়।
পাকিস্তান মধ্যস্থতায় গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধের শর্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তা মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে ইরান কর্তৃক নির্ধারিত বৈধ সমুদ্রপথ এড়িয়ে অবৈধ পথে জাহাজ চলাচলে সহায়তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিটি আগ্রাসনের কঠোর ও আপসহীন জবাব দেওয়া হবে।
প্রশ্ন উঠছে ইরান কেন জর্ডানকেই এবার প্রধান টার্গেটে পরিণত করেছে। তেহরান আসলে কি ফাঁদ পেতেছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনের মতো ইরানের নিকটবর্তী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি আগেই বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ইরানে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে জর্ডান এখন মার্কিন বাহিনীর শক্ত ভরসার জায়গা। আর সে কারণেই হয়তো তেহরান এবার জর্ডানকে টার্গেট করেছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
কিউএনবি/অনিমা/১৮ জুলাই ২০২৬,/রাত ১১:৩০