আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তৃত গবেষণার পর বুধবার (২৬ এপ্রিল) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিজিপে। প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত কয়েক বছর ধরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে একাধিক আইন চালু করেছে। কিন্তু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় টেকসই কোনো সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘কয়েকটি দেশের সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে করোনা মহামারিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। যেমন করোনাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার তথা অবাধ চলাচল সীমীত করা হয়েছে ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য আটকানো হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক সামরিক অভিযানও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় ইইউর সক্ষমতা পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।’
সাংবাদিকদের ওপর হামলা এমনকি হত্যার ঘটনাও বাড়ছে। প্রতিবেদন মতে, গত এক বছরে ইউক্রেনে ১০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ায় অনেক সাংবাদিকককে মস্কোর যুদ্ধকালীন সেন্সরশিপ আইন তথা নানা বিধিনিষেধের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশ্ব প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স তথা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে নয়টিই ইউরোপের। কিন্তু এই অঞ্চলের সাংবাদিকতার পরিবেশ দ্রুতই অবনতি হচ্ছে। যেমনটা আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন সিপিজে’র ইউরোপ প্রতিনিধি টম গিবসন।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে হুমকির মুখে রয়েছে। আমরা যদি ইউরোপের পরিস্থিতির দিকে তাকাই, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা যে বেড়েছে সেটা দেখতে পাব।’টম গিবসন আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি, যতই দিন গেছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি ও ডিজিটাল হুমকির বৃদ্ধি পেয়েছে। ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের হুমকি-ধামকি দেন। এছাড়া বিব্রতকর বিভিন্ন মামলার মাধ্যমে তাদের চুপ করিয়ে দিতে চাচ্ছেন।’
ইউরোপে স্বাধীন গণমাধ্যমে প্রতি সরকারের সমর্থনের অভাব রয়েছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন গিবসন। এটাকে ‘গণমাধ্যম দখল’ বলে অভিহিত করেছেন। গিবসন জানিয়েছেন, কয়েকটি দেশের ‘সরকার অর্থায়নের মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন সাংবাদিকতাকে দুর্বল করতে চাচ্ছে।’ ইইউকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সিপিজের এই প্রতিনিধি।
কিউএনবি/আয়শা/২৬ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৮:৫২