বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিস্ট্রিক্ট পলিসি ফোরামের (ডিপিএফ) উদ্যোগে বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ডিস্ট্রিক্ট পলিসি ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই গণশুনানিতে উপস্থিত নাগরিকরা জেলার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। গণশুনানিতে শিক্ষক, আইনজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, এনজিও কর্মী, চাকুরি প্রার্থী, ছাত্র, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগের বিষয়ে তাদের নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
এ সময় অভিযোগ করা হয়, সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন নানাভাবে সেবা বঞ্চিত করা হচ্ছে। সিটিজেন চার্টে রোগীদের কি খাবার খেতে দেয়া হয়, তা লেখা নেই। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য এক শিশুকে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বজনদের পাশের বেসরকারি নবজাতক হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে একজন অভিযোগ করেন। হাসপাতালে তুলা ও ব্যান্ডেজের কাপড় পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ উঠে।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. শাহ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন। ডিস্ট্রিক্ট পলিসি ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ আরজু মিয়ার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম, ডিপিএফের বিভাগীয় প্রতিনিধি আলমগীর মিয়া, জেলা রেজিষ্ট্রার সরকার লুৎফুল কবীর, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালী উল্লাহ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার মাহমুদুল হাসান, আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ভিকারুন নেছা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত মাস্টার রফিকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিস্ট্রিক্ট পলিসি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন।
গণশুনানিতে অভিযোগ করা হয়, জেলা সদরসহ পুরো উপজেলায় পুকুর ভরাট চলছে। কসবায় পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে নিজেই তথ্য দেন জেলা প্রশাসক। জমির দলিল করতে ও পাসপোর্টের জন্য ঠিকানা যাচাইয়ের কাজে লাগে অতিরিক্ত টাকা। মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য বইয়ের কাগজের মান খারাপ ও এখনও বই আসেনি বলে অভিযোগ করা হয় গণশুনানিতে। পৌর এলাকার যানজট নিয়েও নানা আলোচনা হয়। নতুন পদ্ধতির পরও টিকিট কালোবাজারি কমেনি বলে অনেকে অভিযোগ করেন।
জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, ‘আমি যোগাদানের পর কোনো পুকুর ভরাট হতে দেইনি। কোনো পুকুরই ভরাট করতে দেওয়া হবে না। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বই ছাপায় বিলম্ব হয়েছে। পৌর এলাকায় হকার, যানজট, ট্রাক প্রবেশের বিষয়ে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।’
কিউএনবি/আয়শা/২৯ মার্চ ২০২৩,/রাত ৮:০৩