আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন সামনে করে রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রধান বিরোধী দল পিটিআই’র সভা-সমাবেশে নিষিদ্ধ করেছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার। দুর্নীতির মামলায় ইমরান খানকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, ইমরান খানের বক্তব্য ও বিবৃতি সম্প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
সরকারের এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই গত বুধবার (৮ মার্চ) লাহোরে সমাবেশের ডাক দেয় পিটিআই। সেই সমাবেশে অংশ নেয় হাজার হাজার নেতা-কর্মী। বিক্ষোভ-সমাবেশ প্রধানত শান্তিপূর্ণ হলেও সাড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে সমাবেশ পণ্ড করে দেয়।
পুলিশের লাঠিচার্জে এক পিটিআইকর্মী নিহত হন। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন। এছাড়া পিটিআই’র অসংখ্য নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। ইমরান খান ও পিটিআই’র সিনিয়র নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে।
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, ‘মূলত সরকার ও তার সমর্থকরা নির্বাচন নিয়ে ভয় পাচ্ছে। কারণ গত আট মাসে এখন পর্যন্ত ৩৭টি উপনির্বাচনের মধ্যে আমার দল ৩০টিতেই জয়লাভ করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাকে গ্রেফতার করতে চায়। নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে চায়। কারণ তারা ভয় পাচ্ছে। কারণ আমার দল পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয়।’
এছাড়া বিবিসিকে দেয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে নতুন সেনাপ্রধান আসিম মুনীরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন ইমরান খান। তিনি বলেছেন, নতুন সেনাপ্রধান আসার পর পিটিআই আরও সংকটে পড়েছে। এর আগে ইমরান খান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনীরের সঙ্গে কথা বলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। তবে সেনাপ্রধান তার সঙ্গে সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানান। এ ব্যাপারে ইমরান খান মন্তব্য করেন, সেনাপ্রধান তার সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করছেন।
ইমরান খান বলেন, সরকার তাকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। বিবিসিকে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল আমাকে অযোগ্য প্রমাণ করতে চায় এবং আমাকে জেলে ভরে দিতে চায়। কিন্তু এটা সম্ভব নয়। ইমরান খান আরও বলেন, পুরো জাতি ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে। আর এজন্যই পিটিআই ২০১৮ এর নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। আর এখন মুদ্রাস্ফীতির কারণে সেসব দল মানুষের মন থেকে পুরোপুরি উঠে গেছে।
কিউএনবি/আয়শা/১০ মার্চ ২০২৩,/বিকাল ৪:৩৪