আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা বা ইউক্রেনের যুদ্ধ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। তবে সুদানের সংকট কিছুটা উপেক্ষিত থেকে গেছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার। তিন বছর ধরে চলা সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-এর লড়াইয়ে দেশটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি ব্রিটেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের সঙ্গে কথা বলেন ইয়েভেট কুপার। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সুদানের সংঘাত ২১শ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট এবং বিশ্বের উচিত এর দিকে চোখ ফেরানো।’
কুপার আরও জানান, যুদ্ধের কারণে ৩৩ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মানবিক সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছে। ১৪ মিলিয়ন মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে এবং লাখ লাখ শিশু দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী (সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস) ও শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেদতি)-র নেতৃত্বাধীন এই দুই পক্ষের লড়াইয়ে দেশটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সুদানে ১২ থেকে ১৪ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংকট। প্রায় ৩৩ মিলিয়ন বা দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সাহায্যে প্রয়োজন। ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর দারফুরের এল-ফাশির ও দক্ষিণ কর্দোফানের কাদুগলিসহ বিভিন্ন এলাকায়। লাখ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।
যুদ্ধে ব্যাপক যৌন সহিংসতার অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, কলেরা-ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
কুপার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্ব সুদানের মানুষের প্রতি ব্যর্থ হয়েছে। এখনই যুদ্ধবিরতি দরকার।’
সুদানের এই সংকট গাজা বা ইউক্রেনের তুলনায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাহায্যে অনেক কম মনোযোগ পেয়েছে। চলতি বছরের প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ১৬ শতাংশ এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে। ব্রিটেন সুদানের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে সাহায্য বাড়িয়েছে। বার্লিনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে কুপার যুদ্ধরত পক্ষগুলোর প্রতি অবিলম্বে রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
সুদানের এই যুদ্ধ শুধু দেশটির ভেতরেই নয়, চাদ, দক্ষিণ সুদান, মিশরসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও নিরাপত্তা ও শরণার্থী সংকট তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের তৃতীয় বছরে প্রবেশ করা সুদানে শান্তি ফেরানো এখন খুবই জরুরি। অন্যথায় এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সূত্র: স্কাই নিউজ, এপি
কিউএনবি/অনিমা/১৫ এপ্রিল ২০২৬,/দুপুর ১২:১০