বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বন্দুকের মুখে কোটি টাকার গয়না লুটের পরও কিম ক্ষতিপূরণ চাইলেন মাত্র ১ ইউরো, নেপথ্যে যে কারণ অস্ত্রের মুখে গয়না লুট, কিম কার্দাশিয়ানকে দেওয়া হবে এক ইউরো ক্ষতিপূরণ জরায়ু অপসারণের পর দীর্ঘ সংগ্রাম, অবশেষে মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন লেনা ডানহাম বাবা হারালেন কণ্ঠশিল্পী সালমা ঢাকার ডিস্ট্রিবিউটরদের নিয়ে ‘নগদ’এর সচেতনতামূলক কর্মশালা শেখ হাসিনার নির্দেশে ইশতিয়াক ডিএমপিতে টর্চার সেল বানান পশ্চিমা সম্প্রসারণবাদই ইউক্রেন সংকটের মূল: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপি আপেল সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত মাথার চুল ঢেকে রাখাই কি পর্দা? ইসলাম কী বলে নবীজির (সা.) প্রতি দরুদ পাঠে মিলবে যেসব অলৌকিক বরকত

ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্তে হতবাক নেতানিয়াহু, জানতেন না কিছুই!

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ৫৩ Time View

ডেস্কনিউজঃ যুদ্ধ বন্ধে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা আকস্মিকভাবে বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড। আর তাতে ‘হতবাক’ হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার (১২ জুন) মার্কিন গণমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এমনটিই দাবি করেছে।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দুই দেশের কৌশলগত সমন্বয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অনেকটাই অন্ধকারে ছিলেন। পরিস্থিতি বুঝতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।

এই পরিস্থিতি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ইরান ইস্যুতে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান ধীরে ধীরে ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন চায় দ্রুত সংঘাত কমিয়ে অর্থনৈতিক চাপ, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু যুদ্ধের শুরুতে ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে আরও কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে চাইছেন।

ট্রাম্প কী বললেন

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় একটি খসড়া চুক্তি নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। সেই ভিত্তিতে তিনি ইরানে নির্ধারিত বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, আলোচনায় যুক্ত সব পক্ষ- যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, মিশরসহ অন্যান্য দেশ এই কাঠামোগত সমঝোতায় একমত হয়েছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুতের আগে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি ও আরও কয়েকজন আঞ্চলিক নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

ইসরায়েলের অবস্থান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পরে এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের কোনো অংশীদার নয় ইসরায়েল। তবে একই সঙ্গে তারা জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে যেন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। এ বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিকে তারা স্বাগত জানায়।

দুই মিত্রের লক্ষ্য ভিন্ন পথে

দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ইরান প্রশ্নে নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থানের সঙ্গে অনেকাংশে একমত ছিলেন ট্রাম্প। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই নেতার লক্ষ্য আলাদা হয়ে ওঠে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প দ্রুত একটি ‘স্বল্প সময়ের সমাধান’ চান, যেখানে সংঘাত দ্রুত শেষ হবে। কিন্তু নেতানিয়াহু ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিকভাবে দুর্বল করতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

ইরানের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে হামলা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে ইসরায়েলেও যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়।

অভ্যন্তরীণ চাপ ও রাজনৈতিক সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে ও দেশটি আবারও মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। এটি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিপরীত।

অন্যদিকে, ইসরায়েলে নেতানিয়াহু সমালোচনার মুখে পড়েছেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে। এখনো গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় নেতানিয়াহু কখনো কখনো ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের অনুরোধ সত্ত্বেও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়, যার পর ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে হয়।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কেও উত্তেজনা

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়, যেখানে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। এমনকি নিউইয়র্ক পোস্টের এক পডকাস্টে ট্রাম্প স্বীকার করেন, তিনি একপর্যায়ে নেতানিয়াহুকে ‘অকথ্য ভাষায়’ সমালোচনা করেছিলেন ও তাকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলেছিলেন।

অ্যাক্সিওসের বরাতে আরও বলা হয়, ট্রাম্প ফোনে নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তুমি আসলে করছোটা কী?

ইরান নীতি ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

নেতানিয়াহুর জন্য এখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সঙ্গে সমন্বয় ধরে রাখা ও একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলানো- দুই দিকই তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলের অধিকাংশ নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে থাকলেও যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এই কৌশলগত দূরত্ব মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ সংঘাত ও কূটনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

কিউএনবি/বিপুল/১২.০৬.২০২৬/সন্ধ্যা ৭.৪৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit