আন্তর্জাতিকডেস্ক : রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এমনিতেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ভাঙন শুরু হয়েছে তার দলেও। এবার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে তৃণমূল নেত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভোটের আগে ভারতের কলকাতার ধর্মতলার মঞ্চ থেকে একটি জনসভায় মমতার একটি মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। সেই ঘটনায় এবার তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলো।
ধর্মতলার জনসভা থেকে মুসলমান সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখ রেখে মমতা বলেছিলেন, ‘আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে! একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, তখন ঘিরে ফেললে ১ সেকেন্ডে দেবে একদম ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান, তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।’
মমতার এ মন্তব্যের ভিডিও ভোটের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, মুখ্যমন্ত্রীর মতো সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত।
শুক্রবার ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে, ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে দেওয়া বক্তব্য ছিল ‘বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক’, যা সাধারণ মানুষকে অপরাধমূলক কাজে প্ররোচিত করতে পারে এবং রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে মোট তিনটি ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-ধারা ১৯৬(১): বিভিন্ন গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি বা সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ। ধারা ৩৫১(২): অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা উসকানি সংক্রান্ত অভিযোগ। ধারা ৩৫২: শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান বা প্ররোচনার অভিযোগ।
এর আগেও ক্ষমতা হারানোর পর মমতার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গত ২ জুন একটি জনসভায় ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় এক আইনজীবী অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা করার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-দাঙ্গায় উসকানি, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, জনসম্প্রীতি নষ্ট করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শান্তিভঙ্গের মতো বিষয়।
সবমিলিয়ে ক্ষমতা হারানোর পর মমতার বিরুদ্ধে পরপর একাধিক অভিযোগ ও মামলা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অর্থাৎ দল ভেঙে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ফলে মমতা বিভিন্ন দিক থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন মমতা।
কিউএনবি/অনিমা/১২.০৬.২০২৬/রাত ১০.৪৯