আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দাবানলের ভয়াবহ তাণ্ডব কাটিয়ে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে স্পেনের মানুষ। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় হাজার হাজার স্থানান্তরিত বাসিন্দা নিজেদের ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে স্বস্তির চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রতিবেশী ফ্রান্সে। নতুন করে শুরু হওয়া তাপদাহে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল, যা পুরো দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে চলা এই প্রাকৃতিক দূর্যোগকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।
স্পেনের প্রশাসন থেকে সম্প্রতি মাদ্রিদের কাছের কয়েকটি শহরের বাসিন্দাদের ওপর থেকে স্থানান্তরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের অনিশ্চয়তা শেষে বহু মানুষ নিরাপদে নিজেদের অক্ষত বাড়িঘরে ফিরে গেছেন। আনন্দ ও স্বস্তির পাশাপাশি ভেসে উঠেছে ধ্বংসের তীব্র ক্ষতচিহ্নও। অনেক বাসিন্দা বাড়ি ফিরে দেখেছেন, তাঁদের বছরের পর বছর গড়ে তোলা স্মৃতির বসতবাড়ি পুড়ে একদম ছাই হয়ে গেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটাই স্থিতিশীল, তবে আগুন সম্পূর্ণ নেভাতে আগামী সময়টুকু অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে ফ্রান্সের গিরোন্দে অঞ্চলে কয়েক দিনের নিয়ন্ত্রণের পর আবার তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করায় পরিস্থিতি থমথমে হয়ে উঠেছে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্বের বার অঞ্চলে হঠাৎ নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ছশো মানুষকে তড়িঘড়ি করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বোর্দো এবং ট্রপাজের মতো বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলির কাছাকাছি অঞ্চলে আগুনের শিখা দেখা দেওয়ায় উদ্বিগ্ন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু ফ্রান্স বা স্পেনেই সীমাবদ্ধ নয়, দাবানলের এই করাল গ্রাস ছড়িয়ে পড়েছে গ্রিস ও তুরস্কেও। পর্যটন দ্বীপগুলোতে আগুন ছড়ানোর পর সেখানেও শত শত মানুষ সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে ঘন ঘন তৈরি হচ্ছে তীব্র দাবদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরা। বছরের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টির ফলে গাজানো অতিরিক্ত গাছপালা ও ঝোপঝাড় চরম তাপদাহে শুকিয়ে একেবারে বারুদের মতো হয়ে গেছে, যার ফলে খুব সামান্য অঘটন থেকেই ভয়াবহ দাবানলের সৃষ্টি হচ্ছে। চলতি বছরে ইইউ দাবানল তথ্যব্যবস্থার হিসাবে রেকর্ড পরিমাণ এলাকা পুড়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে দাবানলের এই প্রাকৃতিক ঝুঁকি মধ্য ইউরোপের দেশগুলোর দিকে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: ইউরো নিউজ
কিউএনবি/অনিমা/৩০ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ২:৩০