বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

“রুটিন মাফিক বছরের একটি দিনে আমন্ত্রণ পত্র পায় তারা,তারপর ভাষা সৈনিকদের খোঁজ রাখেন না কেউ

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • Update Time : শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ১১৪ Time View
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,লালমনিরহাট প্রতিনিধি :  ১৯৫২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলন। সেই ভাষা সংগ্রামে পিছিয়ে ছিল না লালমনিরহাটও। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত লালমনিরহাটের ছাত্রসমাজ, সাধারন জনগন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে একসাথে লালমনিরহাটে মাতৃভাষার দাবিতে আন্দোলন করেছেন। মহান ভাষা আন্দোলনে লালমনিরহাটের যেসব ভাষা সৈনিক সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের মধ্যে ভাষা সৈনিক আবদুল কাদের ভাসানী ও মোঃ জহির উদ্দিন আহম্মদ অন্যতম। তারা দুজনে এখনো বেঁচে আছেন।আর যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তাঁরা হলেন-আশরাফ আলী, ড. শাফিয়া খাতুন, মনিরুজ্জামান, আবদুল কুদ্দুছ, কমরেড শামসুল হক, মহেন্দ্রনাথ রায়, আবিদ আলী, জরিনা বেগম, জাহানারা বেগম (দুলু) ও কমরেড সিরাজুল ইসলাম।
১৯৫২ সালে লালমনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন আবদুল কাদের ভাসানী ও মোঃ জহির উদ্দিন আহম্মদ। স্কুলে পড়ার পাশাপাশি তারা ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ওই সময় আবদুল কাদের ভাসানী লালমনিরহাটে গঠিত ভাষা সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক ও মোঃ জহির উদ্দিন আহম্মদ সভাপতি ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতালের সমর্থনে আবদুল কাদের ভাসানী ও মোঃ জহির উদ্দিন আহম্মদ এবং ভাষা সংগ্রাম পরিষদের কয়েকজন সদস্য লালমনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের বাড়ী পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই লালমনিরহাট থানা পুলিশ তাঁদের গ্রেফতারের জন্য বিদ্যালয় গেটে আসে। পরে প্রধান শিক্ষক পুলিশকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি না দেয়ায় পুলিশ বাহিনীকে বাহিরেই দাঁড়িয়ে থাকেন এবং কিছুক্ষণ থেকে তারা ফিরে যান। এ সময় গ্রেফতার এড়াতে ছাত্রনেতাগণ বিদ্যালয়ের পিছনে সুইপার কলোনি দিয়ে পালিয়ে যান। 
এরপরেই লালমনিরহাটে ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য বলে তারা চিহ্নিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ কারণে-অকারণে তাঁদের ধরে এনে লালমনিরহাট থানায় আটকিয়ে রাখতে শুরু করলে বাধ্য হয়ে তারা আত্মগোপন করে আন্দোলন চালিয়ে যান। আবদুল কাদের ভাসানী ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। আবদুল কাদের ভাসানী এখন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের হাড়ীভাঙ্গা (হলদীটারী) ও মোঃ জহির উদ্দিন আহম্মদ নওদাবস গ্রামে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভাল না। বয়সের ভারে নয়ে পড়েছেন তারা। এছাড়া মহান ভাষা আন্দোলনের এই নেতাদের খুব একটা খোঁজও রাখেন না কেউ।
জীবিত ভাষা সৈনিক আবদুল কাদের ভাসানী ও মোঃ জহির উদ্দিন আহম্মদ-এর কেউ খোঁজ না রখলেও খোঁজ রাখেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন। সেটাও আবার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে। এই দিনটিতে রুটিন মাফিক তাদের একটি আমন্ত্রণ পত্র প্রেরণ করা হয়। অতঃপর তাদের ২১ ফেব্রুয়ারির দিন সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বছরের ফেব্রুয়ারি মাস ছাড়া, অন্যান্য ১১টি মাসে তাঁদের কোন খোঁজ খবর নেন না কেউ।ভাষা সৈনিক আবদুল কাদের ভাসানী বলেন, বয়স অনেক হয়েছে তাই আগের মতো হাটাচলা করতে পারিনা। কিছুদিন আগেও সরকারীভাবে আমাদের সব সময় খোঁজ খবর নেয়া হতো, সম্মান করা হতো। কিন্তু এখন কি হলো ঠিক বুঝতে পারছি না। এখন আর আমাদের কেউ খোঁজ রাখে না। 
সুশীল সমাজের একজন বলেন, বার্ধক্যের কারণে ঠিকমত কথা বলতে পারেন না, চলাফেরাও করতে পারেন না। অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। প্রতিবছরের ফেব্রুয়ারি মাসেলেই জেলা প্রশাসনসহ অনেকেই খোঁজখবর নেন তাদের। তারপর আবার এক বছরের জন্য ভুলে যান। জীবন সায়াহ্নে এসে ভাষা আন্দোলনের এই সংগ্রামী মানুষ দুটি আর কিছুই চান না। তাদের একমাত্র চাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মতো ভাষা সৈনিক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া।

কিউএনবি/অনিমা/১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/দুপুর ১:২৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit